সর্বশেষ সংবাদ

বাজারের মরিচের গুঁড়ায় বিষ!

পাইকারি ও খুচরা বাজারের মরিচের গুঁড়ায় (প্যাকেটজাত নয়) মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর বিষাক্ত জৈব উপাদান ও রাসায়নিক রঙের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানের বাজার থেকে সংগ্রহ করা মরিচের গুঁড়ার ২৭টি নমুনার মধ্যে ২২টিতেই এ ক্ষতিকর উপাদান পেয়েছে সরকারের জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট (আইপিএইচ)।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব মরিচের গুঁড়া খেলে যে কোনো মানুষ ক্যান্সারসহ বিভিন্ন মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হতে পারে। আর যদি কোনো ব্যক্তি এ মরিচের গুঁড়া দীর্ঘদিন খেয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিষ্ক্রিয় বা নিস্তেজ হতে পারে। পাশাপাশি বাধগ্রস্ত হতে পারে শারীরিক বৃদ্ধি ও বংশ পরিক্রমা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি সরকারের জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরিতে ২৭টি মরিচের গুঁড়ার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ২২টিতে বিষাক্ত জৈব উপাদান আফলা টক্সিনের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য মাত্রায় পাওয়া গেছে। মানবদেহের জন্য কোনো পণ্যের আফলা টক্সিনের স্বাভাবিক মাত্রা ১৫ পিপিবি (পার্ট পার বিলিয়ন) হলেও পরীক্ষায় ২১  দশমিক ৩৯ পিপিবি পর্যন্ত পাওয়া গেছে।
এছাড়া মরিচের আরও তিনটি নমুনায় রাসায়নিক রঙ সুধান রেড-১-এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এই রাসায়নিক রঙের যে কোনো মাত্রাই মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু তিনটি নমুনাতেই এক শতাংশ হারে এই রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। দেশের প্রচলিত বিশুদ্ধ খাদ্য আইন অনুসারে খাদ্যপণ্যে রঙ মেশানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও এসব ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হচ্ছে না।
জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের ‘মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন অব হর্টিকালচার প্রোডাক্টস্ অ্যান্ড আদার ফুড কমোডিটিস ফর কেমিক্যাল কন্টামিনেশন অ্যাট এনএফএসএল : অ্যান অ্যাপ্রাইজাল অব ফুড সেফটি সার্ভে ইন বাংলাদেশ’ বিষয়ক জরিপের অংশ হিসেবে ১৫ মার্চ থেকে ৩০ মার্চের মধ্যে এ গবেষণা পরিচালিত হয়। গবেষণার জন্য উৎপাদন, পাইকারি ও খুচরা বাজার- এ তিন পর্যায় থেকে ৯টি করে মোট ২৭টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
জানতে চাইলে জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের পাবলিক অ্যানালিস্ট মাজেদা বেগম পরীক্ষার জন্য ব্যবহৃত নমুনা প্রসঙ্গে যুগান্তরকে বলেন, এসব নমুনা উপজেলা পর্যায়ের সেনিটারি ইন্সপেক্টরদের সরবরাহকৃত। এবারের পরীক্ষায় শুধু খোলা বাজারে বিক্রি হয়, এমন মরিচের গুঁড়া তিন পর্যায় থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। প্যাকেটজাত কোনো নমুনা পরীক্ষা করা হয়নি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, আফলা টক্সিন এক ধরনের ফাঙ্গাস। যে কোনো খাদ্যপণ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা না হলে ওই পণ্যের গায়ে ফাঙ্গাস পড়ে। মরিচ গুঁড়া করার আগে ভালোভাবে শুকিয়ে নিলে এবং গুঁড়া করার পর আর্দ্রতা নিরোধক উপায়ে সংরক্ষণ করা হলে ফাঙ্গাসের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব। পণ্য উৎপাদন ও গুদামজাত করার ক্ষেত্রে যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করা হলে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিমুক্ত করা সম্ভব।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের একজন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, বাজারের খোলা গুঁড়া মরিচ সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও গুদামজাত না করার কারণে এর ওপর প্রাকৃতিকভাবে এক ধরনের ফাঙ্গাস পড়ে। এই ফাঙ্গাস পরবর্তীতে মরিচের গুঁড়ায় আলফা টক্সিন সৃষ্টি করে। এটা মূলত এক ধরনের বিষ, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। মরিচের গুঁড়ায় ফাঙ্গাস পড়লে তার স্বাভাবিক রঙ কিছুটা ফ্যাকাসে হয়ে পড়ে। তখন বিক্রেতারা এটাকে আকর্ষণীয় করতে বিষাক্ত রাসায়নিক রঙ মেশান।
এসব জৈব ও রাসায়নিক উপাদানের ক্ষতি সম্পর্কে সরকারের রোগতত্ত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মাহমুদুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, আফলা টক্সিন এক ধরনের বিষ, যা প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্টি হয়ে থাকে। তিনি বলেন, আফলা টক্সিন মেশানো খাদ্যপণ্য নিয়মিত শরীরে প্রবেশ করলে তাৎক্ষণিকভাবে শারীরিক ক্ষতি না হলেও দীর্ঘমেয়াদে লিভার কান্সারের ঝুঁকি তৈরি হয়। দক্ষিণ আফ্রিকায় আফলা টক্সিন ব্যবহারে বহু লোকের লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার প্রমাণ রয়েছে। এছাড়া আফলা টক্সিন শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বাধার সৃষ্টি করে। পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যেমন কিডনি, লিভার, হার্ট ইত্যাদি দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমনকি এগুলো অকেজোও হয়ে যেতে পারে। রাসায়নিক রঙ সুধান-১ গ্রহণের ফলে প্রাথমিকভাবে চামড়ায় চুলকানি তৈরি করে, যা ক্যান্সার উৎপাদক হিসেবে চিহ্নিত। এছাড়া এই রাসায়নিক বংশ পরিক্রমায় সমস্যা সৃষ্টি করে বলেও জানান তিনি।

– See more at: http://www.jugantor.com/online/national/2016/04/13/9780/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AE%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%9A%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%81%E0%A7%9C%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B7!#sthash.k3PSyMlt.dpuf



Related posts

মন্তব্য করুন