সিলেটের রাতারগুল ও লালাখাল: পর্যটকদের মাথা নষ্ট করা সৌন্দর্য

সিলেট: ঈদ-উল-আযহার ছুটিতে হাজারো প্রাণের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলো। কেউবা তুলছেন সেলফি, কেউবা নিজ ও প্রিয়জনের ছবি ক্যামেরাবন্দি করছেন নিজের মোবাইল ফোনে। ঈদের ছুটি পেয়ে সপরিবারে আবার কেউবা বন্ধু-বান্ধব সাথে নিয়ে ছুটে এসেছেন সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে। এবারের ঈদে সিলেটের অর্ধশত পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র পর্যটকদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে। আধ্যাত্মিক রাজধানী সিলেট এখন পর্যটকের নগরীতে পরিণত হয়েছে। সিলেটের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র পর্যটকদের কাছে টেনে বিলিয়ে দিচ্ছে তার রূপ। এছাড়া প্রকৃতি কন্যা জাফলং আর লালাখালের স্বচ্ছ জলও প্রকৃতি প্রেমীদের কাছে টানছে। মিঠা পানির বন রাতারগুলেও পর্যটকের ভিড় রয়েছে।

সিলেটের অর্ধশত পর্যটন স্পট ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে তিলধারণের যেন ঠাঁই নেই। দেশের বিভিন্ন স্থানের পর্যটকরা ভিড় করছেন এসব পর্যটন স্পট ও বিনোদন কেন্দ্রে। ফলে সিলেটে ঈদে লেগেছে প্রাণের স্পন্দন। ঈদ আনন্দে মাতোয়ারা পর্যটকরা ঘুরে বেড়াচ্ছেন এক স্পট থেকে অন্যস্পটে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিলেট মেট্রোপলিটন ও বিভাগীয় পুলিশের রয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
জানা যায়, প্রকৃতি কন্যা জাফলং, রাতারগুল সোয়াম ফরেস্ট, বিছনাকান্দি জিরো পয়েন্ট ও পান্তুমাইয়ের ঝর্ণাধারা, মাধবকুন্ড, সারিনদী, লালাখাল ও লোভাছড়ায় পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লেগে আছে।

এই পর্যটন কেন্দ্রগুলোর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য খুব সহজেই আকৃষ্ট করে আগত পর্যটকদের। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে প্রকৃতিকন্যা জাফলংয়ের পরিচিতি রয়েছে। প্রকৃতি এখানে প্রতিনিয়ত হাতছানি দিয়ে ডাকে। পাহাড় টিলা আর সমতল ভূমিতে সারি-সারি চা বাগানে সবুজের সমারোহ। অপরূপ রূপের চাদর মোড়ানো পাহাড় আর সেই পাহাড়ের পাশ ঘেঁষে বয়ে গেছে পিয়াইন নদী এবং পাহাড়ের গাঁ থেকে অবিরাম ঝর্ণাধারা প্রকৃতির সবটুকুই যেন লুটোপুটি খাচ্ছে এখানে। ভারত-বাংলাদেশের এই জিরো পয়েন্ট পর্যটকদের কাছে খুবিই প্রিয়। বিশেষ করে বল্লাঘাটের জিরো পয়েন্টে ডাউকী নদীর উপর ঝুলন্ত ব্রিজ আরো বেশি আকৃষ্ট করে পর্যটকদের। এমনকি অনেকেই সিলেট নগরীর শাহজালাল (রহ.) মাজার ও শহরতলীর শাহপরাণ (রহ.) মাজারে গিয়ে জিয়ারতের মাধ্যমে পর্যটকরা সিলেট ভ্রমণ শুরু করতে দেখা গেছে।
ঢাকা থেকে স্বপরিবারে সিলেট আগত ব্যবসায়ী ইমন আহমদ জানান, যেকোন ছুটিতেই স্বপরিবারের ঘুরতে সিলেট চলে আসি। একমাত্র সিলেটকেই দেশের অন্যতম পর্যটন নগরী বলতে আমার কোন দ্বিধা নেই।
এছাড়াও ভোলাগঞ্জে সাদাসাদা পাথরের স্তূপ, সবুজ চা-বাগান, খাদিম ফরেস্ট, সুনামগঞ্জের রামসারভুক্ত টাঙ্গুগুয়া ও হাকালুকির হাওর, টেকেরঘাট, যাদুকাটা নদী, বারাইক্কা টিলা, শ্রীমঙ্গলের গ্রান্ড সুলতান, মাধবপুর লেক, গোলাপগঞ্জে শ্রীচৈতন্যের মন্দির, সিলেট ও সুনামগঞ্জে হাসন রাজার মিউজিয়াম, ডলুরা শহীদ মিনার, টিলাগড় ইকোপার্ক, ঐতিহাসিক ক্বীন ব্রিজ, আলী আমজাদের ঘড়ি, ভিআইপি সার্কিট হাউজ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, এমসি কলেজ ক্যাম্পাস, জকিগঞ্জে বরাক-সুরমা কুশিয়ারা তিন নদীর মোহনায় অমলসিদ, সবুজ পাহাড় আর স্বচ্ছ জলের বহমান ধারা লালাখালে পর্যটকদের পদভারে মুখরিত হয়।
সিলেট জেলা পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা বলেন, পর্যটকটকরা কোন ভাবেই যাতে হয়রানির শিকার না হয় সেজন্য পুলিশকে কঠোর নির্দেশনা ও তাদেরকে নিরাপত্তা দেয়ার নির্দেশ ঈদের আগের দেয়া হয়েছে।
আর সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশেশর উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) রহমত উল্লাহ জানান, ঈদের ছুটিতে পর্যটকরা নগরীর বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াবেন সেজন্য পুলিশী তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়াও মেট্রোপলিটন এলাকাগুলোতে পুলিশী টহল ব্যবস্থা ও নাশকতামূলক কর্মকান্ড এড়াতে পুলিশের তল্লাশি অভিযান অব্যাহত আছে।



Related posts

মন্তব্য করুন