সর্বশেষ সংবাদ

‘তিন চমক’ – আবদুল মান্নান খান ও পীযূষ ভট্টাচার্য , সাধারণ সম্পাদক পদে ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে তিনটি চমক এসেছে বলে মনে করছেন দলটির নেতারা। তাঁদের মতে, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে আবদুল মান্নান খান ও পীযূষ ভট্টাচার্যের অন্তর্ভুক্তি এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ওবায়দুল কাদেরের নাম সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের প্রস্তাব করা এবারের কমিটিতে সবচেয়ে বড় চমক।
তাঁদের মধ্যে একজন যুক্তি দিলেন, খুলনা বিভাগ থেকে দলটির গত কমিটিতে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পদে কেউ ছিলেন না। ওই এলাকায় সভানেত্রী বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ কাউকে খুঁজছিলেন। সেই হিসেবে পীযূষ ভট্টাচার্যকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে তাঁকে কমিটিতে আনার ব্যাপারে চানতে চাইলে পীযূষ ভট্টাচার্য কিছু বলতে রাজি হননি।

 ‘তিন চমক’ - আবদুল মান্নান খান ও পীযূষ ভট্টাচার্য , সাধারণ সম্পাদক পদে ওবায়দুল কাদের

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পীযূষ ভট্টাচার্য বর্তমানে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। তিনি ১৯৭৩-৭৫ সালে যশোরের মনিরামপুর-কেশবপুর আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় সাংসদ ছিলেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স পাস করা পীযূষ এলাকাতে পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবেই পরিচিত। তাঁর ভাই স্বপন ভট্টাচার্য যশোর-৫ আসনের স্বতন্ত্র সাংসদ। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারিতে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হয়ে জয়লাভ করেন।

 

বিগত কমিটির একজন সাংগঠনিক সম্পাদক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,  এ অবস্থায় মান্নান খানের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতিমণ্ডলীর পদ পাওয়া চমক তো বটেই।

আর ওবায়দুল কাদেরের নাম সৈয়দ আশরাফ প্রস্তাব করা যে সবার জন্য চমক ছিল, তা পরিষ্কার করলেন কাদের নিজেই। আজ দুপুরে রাজধানীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনারা অনেকে চমকের কথা লিখেছেন। এই চমকটা কী হলো, সৈয়দ আশরাফই আমার নাম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রস্তাব করলেন। এটাই তো বড় চমক, শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ম্যাজিক।’

সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খানের নাম আগেই আলোচনায় ছিল। তাই তাঁদের অন্তর্ভুক্তিকে চমক হিসেবে দেখছেন না দলীয় নেতারা। আর সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেনের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পদে আসাকে বিশেষ চমক হিসেবে দেখছেন না তাঁরা। কারণ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী সতীশ চন্দ্র রায় বয়স ও দলে নিষ্ক্রিয়তার কারণে বাদ পড়ার পর উত্তরবঙ্গ থেকে যোগ্যতার কারণেই তিনি স্থান পেয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

এবারের সম্মেলনে আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে ৭৩ সদস্যের পরিবর্তে কমিটির আকার ৮১ করা হয়। এর মধ্যে সভাপতিমণ্ডলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষসহ ২১টি পদে কমিটি ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্পাদকমণ্ডলী ও কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যসহ ৬০টি পদে এখনো কারও নাম ঘোষণা করা হয়নি। আজকালের মধ্যে সম্পাদকমণ্ডলী এবং তিন-চার দিনের মধ্যে কার্যনির্বাহী সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হবে। সেখানে কী ধরনের চমক থাকবে, তা দেখার অপেক্ষায় দলটির নেতা-কর্মীরা।



Related posts

মন্তব্য করুন