সর্বশেষ সংবাদ

পদ্মার ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পাবে দোহার, মৈনটে যদি হয় পর্যটন কেন্দ্র

 

 

 

দোহার-নবাবগঞ্জ(ঢাকা) সংবাদদাতা: ‘বহু দিন ধরে বহু ক্রোশ দূরে, বহু ব্যয় করি বহু দেশ ঘুরে, দেখিতে গিয়েছি পর্বতমালা, দেখিতে গিয়াছি সিন্ধু। দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া,ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া,একটি ধানের শিষের উপর একটি শিশির বিন্দু’। কবি গুরু রবি ঠাকুরের কবিতার এ চয়ন গুলোর মতোই হাতের নাগালে থাকা অনেক কিছ্ ুআমরা অবহেলায় অবলীলায় এড়িয়ে চলছি। অথচ একটু যতœবান হলেই এসব কত কদরের তা অনুধাবন করা সম্ভব। দোহারের মৈনট তারই এক প্রতিচ্ছবি। ঠিক তেমনি ভাবে আমাদেরও দেখা হয় না প্রকৃতির অনেক মনমুগ্ধকর স্থান।

যেখানে প্রকৃতি প্রতিনিয়ত সেজেঁ উঠে নব আঙ্গিকে ভিন্নরুপে। ঢাকার দোহার উপজেলার পদ্মা নদীর তীরবর্তী মৈনট ঘাট এলাকা এমনই এক স্থান। যেখানে এসে মিশে আছে এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ দৃশ্য। পদ্মা নদীর তীরবর্তী এ স্থানটি এখন ভ্রমন পিয়াসীদের কাছে এক বিনোদন কেন্দ্র। অনেকেই এটাকে বলে থাকে মিনি কক্সবাজার। পদ্মার তীর জুড়ে গড়ে উঠা বালু চরের চাকচিক্যতায় যেন দর্শনার্থীদের মন কাড়ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, দোহার উপজেলা সদরের দক্ষিণ পশ্চিম দিকে প্রায় ১০ কি.মি. দূরে মাহমুদপুর ইউনিয়নের মৈনট এলাকা। পাশেই গড়ে উঠেছে প্রায় কয়েকশত পরিবারের আশ্রয়স্থল মৈনট আবাসন প্রকল্প। ঢাকার গুলিস্থন থেকে বাস থামে মৈনটঘাটে। মৈনটঘাটের দু’পাশে নদীর তীর জুড়ে যেন সাগর সৈকতের মতোই জেগে উঠা চর। কয়েক কি.মি. এলাকা দর্শনার্থীদের ঘুরে বেড়ানোর এক চমকপ্রদ স্থান। প্রতিদিন বিকেল হলেই ভ্রমন পিয়াসী মানুষের ঢল নামে মৈনটে। কেউ ঘুরেফিরে পায়চারী করে। আবার নদীতে ট্রলার বা স্পীডবোটে ঘুরে বেড়াচ্ছে কেউ। নানাবিধ দোকান পাট ও খেলনার পসরা সাজিয়ে বসেছে মানুষ। বিশেষ করে শুক্র শনিবার ছুটির দিনে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভীড় করছে শত শত মানুষ। দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম আল-আমিন বলেন, মৈনট এখন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। পর্যটন হলে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা অনেকটাই পাল্টে যাবে। ইতিমধ্যে এ স্থানটিকে সরকারের ঘোষিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের আওতায় গণ্য করেছে। প্রায় ২শতাধিক একর জমির দলিলও সম্পাদন করা হয়েছে। কার্তিকপুর বাজার থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরেই প্রমত্তা পদ্মা। আগের মতো নেই তার যৌবনের দাপট।

তবে কখনো কখনো আগ্রাসী রূপে গ্রাস করে নেয় অসহায় মানুষের সাজানো ঘরগৃহস্থালী ও কৃষি আবাদী ফসলী জমি। চির চেনা মৈনট পর্যটন বা অর্থনৈতিক জোন হলে ব্যবসা বাণিজ্যেও প্রসার ঘটবে। বেকারত্ব মোচন হবে দোহারের মানুষের এমনটাই ধারণা এলাকাবাসীর। ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের সাংসদ সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, রাজধানী ঢাকার অতি নিকটের দোহার নবাবগঞ্জকে আধুনিকায়ন করতে মৈনট পর্যটন হলে আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়কে এ বিষয় বলা হবে। সেই সাথে এ অঞ্চলের মানুষের স্বপ্নপূরণে এ দাবিগুলো সংসদে উত্থাপন করবো। যাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দোহার নবাবগঞ্জের মানুষের জীবনমানের কথা চিন্তা করে মৈনটকে পর্যটন এলাকা বাস্তবায়ন করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের প্রচেষ্টায় ইতিমধ্যেই এলাকার রাস্তাঘাট উন্নয়ন হয়েছে। তিনি আন্তরিক হলে মৈনটের চিত্রও পাল্টে যাবে।

গড়ে উঠতে পারে পর্যটন এলাকা। মৈনট পদ্মার পাড়ে আসলে দেখতে পাওয়া যায় ভোরের সূর্যোদয়ের অপরূপ চিত্র। আর শুনতে পাওয়া যায় পদ্মার তীরে গড়া উঠা গ্রামের মেঠো পথ আর বাঁশ বাগান থেকে ভেঁসে আসা পাখির কিচিরমিচির শব্দ। এ যেন প্রকৃতির এক অপরুপ লীলা ভূমি। রয়েছে প্রকৃতির চিরদিনের শোভা সেই অপরুপ কাঁশফুল শোভিত বালুর চর। যেখানে দিগন্ত জোড়া নীল আকাশ আর মুক্ত খোলা বাতাসে হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে অজানার উদ্দেশে। পদ্মার তীর ঘেসে ভেসেঁ যাচ্ছে অসংখ্য মাছ ধরার নৌকা ও মাঝিরা। যারা প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম পদ্মার পানিতে বেড়ে উঠা রুই ,কাতল, ইলিশ, পাঙ্গাস, বোয়াল আর দেশীয় প্রজাতির মাছ ধরে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে। এলাকাবাসীর দাবি, পদ্মা সেতুর খুব নিকটেই দোহারের মৈনটকে পর্যটন করলে শুধু নান্দনিক স্থানই হবে না, রোধ হবে নদী ভাঙন। রক্ষা পাবে হাজারো পরিবার এবং শত শত একর ফসলী জমি । সরকারকে এ বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান স্থানীয়দের।

 

 



Related posts

মন্তব্য করুন