সর্বশেষ সংবাদ

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ এখন একটি গুরত্বপূর্ণ নাম। জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম

16002952_1055636477880675_374283387840025402_n

জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, ‘বাংলাদেশকে আজ সবাই গুরুত্ব দেয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ এখন একটি গুরত্বপূর্ণ নাম।’

শনিবার ২২তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

১ জানুয়ারি শুরু হয় ২২তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। আজ ছিল বাণিজ্য মেলার শেষ দিন।

মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে শ্রেষ্ঠ প্যাভিলিয়ন, মিনি প্যাভিলিয়ন ও স্টলকে পুরস্কৃত করা হয়।

শ্রেষ্ঠ প্যাভিলিয়ন হিসেবে প্রথম পুরস্কার পায় দেশের শীর্ষ ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিকস, অটোমোবাইলস ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবেও পুরস্কার পায় ওয়ালটন।

গত বছরেও ওয়ালটন শ্রেষ্ঠ প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন ও সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে প্রথম পুরস্কার পেয়েছিল।

জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের হাত থেকে বাণিজ্য মেলার সবচেয়ে সম্মানজনক এই দুই পুরস্কার গ্রহণ করেন ওয়ালটনের নির্বাহী পরিচালক ও বিপণন বিভাগের প্রধান সমন্বয়ক ইভা রিজওয়ানা।

এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি ওয়ালটন মেগা প্যাভিলিয়ন পরিদর্শনের সময় জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ওয়ালটন লিফট দেখে প্রশংসা করেন।

পুরস্কার দেওয়ার আগে জনপ্রশাসনমন্ত্রী বলেন, ‘এ দেশের মানুষ বাংলাদেশটাকে এগিয়ে নিচ্ছে। সাধারণ কৃষক থেকে ব্যবসায়ী- সবাই দেশটাকে এগিয়ে নিচ্ছে। খেলাধুলা, শিক্ষা, শিল্প, সৃজনশীল কর্মকাণ্ড ও বাণিজ্য- সব দিক দিযে এ দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদশেকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলা হতো। এখন বাংলাদেশ কিন্ত তেমন নেই, এগিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আরো এগিয়ে যাবে।’

মন্ত্রী জানান, আগামীতে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পাশ থেকে সরিয়ে বসুন্ধরা এলাকায় ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘মেলায় যে পরিমাণ ক্রেতা-দর্শনার্থী আসেন, যে পরিমাণ প্যাভিলিয়ন প্রয়োজন, তাতে এ জায়গায় আর মেলা করা সম্ভব না। এ কারণে বসুন্ধরা এলাকায় বিশাল জমি নেওয়া হয়েছে। সেখানে পারমানেন্ট এক্সিবিশন হল স্থাপন করা হচ্ছে।’

সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এক্সপোর্ট প্রোমোশন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মাফরুহা সুলতানা। বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থ সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, দ্য ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ।

অনুষ্ঠানে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মাফরুহা সুলতানা বলেন, ‘দেশি ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপচেপড়া ভিড় এবং বিদেশি দর্শনার্থীদের আগমন আমাদের আরো অুনপ্রাণিত করেছে। বাণিজ্য মেলা সময়ের চাহিদা হিসেবে বিনোদনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিনোদন এবং বিপণন এ মেলার বিশেষ বৈশিষ্ট্য।’

তিনি জানান, এ বছর বাণিজ্য মেলায় মোট বিক্রি হয়েছে ১১৩.৫৩ কোটি টাকার পণ্য। ২৪৩.৪৪ কোটি টাকার স্পট অর্ডার পাওয়া গেছে।

বাণিজ্য মেলায় ওয়ালটন এ বছর ১৫ হাজার বর্গফুট আয়তনের তিনতলা বিশিষ্ট অপূর্ব স্থাপত্যশৈলীর নান্দনিক ও আকর্ষণীয় মেগা প্যাভিলিয়ন করেছে। প্যাভিলিয়নের চারপাশে ছিল সবুজের সমারোহ। মেলায় আসা সেলফিপ্রেমী দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় সেলফি কর্নার। ক্রেতা-দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে স্থাপন করা হয়েছে অত্যাধুনিক সুপরিসর লিফট।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো থেকে জানানো হয়েছে, শ্রেষ্ঠ প্যাভিলিয়ন, মিনি প্যাভিলিয়ন ও স্টল মূল্যায়ন করেছে ১১ সদস্যের মূল্যায়ন কমিটি। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর মহাপরিচালক-১ অভিজিত চৌধুরী ছিলেন এই মূল্যায়ন কমিটির আহ্বায়ক। এ ছাড়া মূল্যায়ন কমিটিতে ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বুয়েটের স্থাপত্য অনুষদ, এফবিসিসিআই, ডিসিসিআই ও বিসিসিআইয়ের প্রতিনিধি।

প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ এবং জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান বিবেচনা করা হয়। প্যাভিলিয়ন ও স্টলের ক্ষেত্রে স্থাপত্য সৌন্দর্য, অঙ্গসজ্জা, পণ্যের গুণগত মান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা প্রভৃতি বিষয় মূল্যায়ন করা হয়।



Related posts

মন্তব্য করুন