নারী সমাজ মুল্যায়িত প্রধানমন্ত্রীর একান্ত ইচ্ছায় : নারী দিবসে সাবিনা আখতার তুহিন এমপি

দোহার মইনট ঘাটে পাওনা টাকা চাইতে গেলে পাওনাদারকে পিটিয়ে আহত 
৮ মার্চ, বিশ্ব নারী দিবসে। আমরা প্রতিনিয়ত বলছি, নারী নেত্রীরা বড় বড় বক্তৃতা দিচ্ছে, আমরা স্বাধীন, সম অধিকার চাই কিন্তু আসলেই কি আমরা স্বাধীন ? কিন্তু সমাজের সর্বত্র কি নারী অধিকার বাস্তব রুপ নিয়েছে ? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার সরকারে নারী স্পীকার সহ প্রতিটি সেক্টরে নারী নেতৃত্ব নিশ্চিত করেছে কিন্তু নারী কে এগিয়ে নিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একার ইচ্ছে সর্বত্র এগিয়ে নেওয়া সম্ভব না ।
  নারী সমাজ মুল্যায়িত প্রধানমন্ত্রীর একান্ত ইচ্ছায় : নারী দিবসে সাবিনা আখতার তুহিন এমপি
২০১৩ সালে যখন নারী নীতি করা হলো তখন কিছু কিছু ধর্ম ব্যবসায়ীরা রাজপথে নেমে গেল সম্পত্তিতে নারীদের সম-অধিকার কথা বলা হয়েছে এ ইস্যু নিয়ে । আমরা যারা নারী নেতৃত্ব দেই নিজেকে নারীবাদী দাবী করি তারা কি নারীর অধিকার আদায়ের জনমত সৃষ্টি করার জন্য ঘরে ঘরে বা রাজপথে আন্দোলন করতে সক্ষম হয়েছিলাম ? আমরা সেদিন নারী সমাজকে এক করতে পারিনি, বুঝাতে পারিনি, আমাদের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা পরিবারের কাজে অসহযোগ আন্দোলন চালিয়ে যাবো । ধর্ম ব্যবসায়ীদের আন্দোলন মোকাবেলা করতে পারিনি। সরকার পরিবেশ স্বাভাবিক করে এই বলে নারীর অর্জিত সম্পত্তিতে অধিকারের কথা বলা হয়েছে নারীনীতিতে । নারী কখনও পিতা দ্বারা ও স্বামী দ্বারা পরিচালিত হই এবং যে ছেলে সন্তান কে দশমাস পেটে ধারন করি সে সন্তান দ্বারা পরিচালিত হই । নারী অধিকার বা নারী নেতৃত্বের ব্যপারে পুরুষ নেতাদের বক্তব্যে মিথ্যার ফুলঝুরিতে ভরপুর থাকে, কত কথা বলা হয়, নারীর জন্য এটা করা হচ্ছে, ঐটা করা হচ্ছে । বাস্তবতা হলো, সব নেতাদের মন রক্ষার পর নারী নেতাকর্মীদের কথা মনে পড়ে । আমি বিনয়ের সাথে বলতে চাই, ভুল হলে ক্ষমা প্রার্থী। যারা এত নারী উন্নয়নের কথা বলে বাস্তবতা সেখানে ভিন্ন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ব্যতীত বেশির ভাগ নারীকে বা নারী নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না। এটা সব দলে বা সমাজের অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যমান । একটি উদাহরণ হিসেবে বলি, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দুজন নারী সহকর্মীকে সরাসরি কাউন্সিলার পদে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নমিনেশন দিয়েছিলেন এবং তারা রাজনীতিতে সব সময়েই সক্রিয় ছিলেন । দুজনই মহিলা কাউন্সিলার ছিলেন । তারা নারী তাই তাদের মেনে নিতে পারেননি স্থানীয় এমপিরা। অনেক পুরুষ নেতারা সরাসরি নেমে পড়লেন নেত্রীর প্রার্থীকে পরাজিত নিশ্চিত করতে মাঠে । তাদের ক্ষমতা ও পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতার জোরে ওই দুইজন নারী নেতৃত্ব হেরে গেলেন । আমরা যারা তাদের জন্য কাজ করেছি আমাদের নিয়েও টিটকারী করা হলো । আমরা কি নারীকে সত্যিকার অর্থে সম্মান দেই ? সম্মান দিচ্ছি ? আমার প্রশ্নটা এখানেই। অনেক এমপি বলে তোমাদের আর কষ্ট কি ? তোমরা কষ্ট ব্যতীত মহিলা এমপি হয়েছা, অনেকে আবার আরেকটু তাচ্ছিল্য করে বলে, নেত্রীর দয়ায় আমরা এখানে এসেছি। আমি বিনয়ের সাথে বলতে চাই, আমাদের সহকর্মী কষ্ট পেলেও বলে না, কিন্তু আমি বলতে চাই, নেত্রী দয়া না করলে আপনি বা আপনারাও এমপি হতে পারতেন না। আমরা এমপি হয়েছি, হাজার হাজার মহিলাদের থেকে আমাদের যোগ্যতায়, স্বামী বা নেতার যোগ্যতায় নয় । রাজনীতিতে নারী হওয়ার কারনে বিচিত্র অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়েছে আমার। আমরা পুরুষ নেতৃত্বকে মেনে নেই যোগ্যতার ভিত্তিতে । যুবলীগ বা যুবদল কোন নেতা যখন এমপি তখন তার সাথে চলা বা তার নেতৃত্ব মানতে কারো কোন সমস্যা নেই। নারী, পুরুষ সবাই তাকে মানে কিন্তু কোন নারী সংগঠন করা কোনও এমপি কর্মক্ষেত্রে যতই যোগ্য হোক, তার যোগ্যতায় সে সকলকে নিয়ে চলার যখন চেষ্টা করবে তখন তাকে রাজনৈতিক প্রতিরোধ বা ঠেকানোর কোন অস্ত্র যখন না থাকবে তখন বলবে, তোমরা কেন একজন নারীকে সম্মান করবে ? সহযোগী সংগঠনের নেতার পিছনে আমরা চলবো কেন ? আমরাতো মূল সংগঠন ! আরও কত কি ? তাই বলি, বক্তৃতায় যা অনেকে বলে তার প্রতি প্রকৃত অর্থেই আমরা শ্রদ্ধাশীল না । নারীরা যদি এমন বিদ্রোহ করতো কোন পুরুষের নেতৃত্ব মানবো না, যোগ্যতা থাক বা না থাক নারী নেতৃত্বের পিছনেই চলব্‌ কেমন হবে তখন ব্যপারটা । যদিও আমি মনে করি, কারো দয়া না, পুরুষ বা নারী হিসেবে না মানুষ হিসেবে যদি যোগ্যতা থাকে যদি নেতৃত্ব দেয়ার মত যোগ্য হয় তবে তাকেই তার ন্যায্য অধিকার দিতে হবে, মেনে নেয়ার মন মানুষিকতা থাকতে হবে তবেই নারী পুরুষের ভেদাভেদ আক্ষরিক অর্থেই ঘুচবে । আমি আমার ছেলে আন্দোলনের স্কুলে প্রায়ই যাই। সেখানে, সব মায়েদের সাথেই আমার ভাল সম্পর্ক । আমি খেয়াল করে দেখছি, সেখানে সবাই সবাইকেই ভাবী সম্বোধন করে বলে কিন্তু কেউই কিন্তু কারো স্বামীকেই চিনে না, এমনকি আমার স্বামীকেও তারা চিনে না, অথচ আমাকে তারা ভাবি বলেই ডাকে। ভাবী বলে । আমি বললাম আমার স্বামীকে তো আপনারা চিনেন না, কিভাবে তাহলে আমি ভাবি হলাম আপনাদের ? ভাবী না ডেকে আমাকে আপা বলতে বললাম। প্রথম প্রথম তারা কিছু ডাকতো না কিন্তু, এখন অবশ্য আপা বলে । আসলে আমাদের নিজেদের অধিকার কেউ দিবে না, এটা আদায় করে নিতে হবে । ইসলামে নারী নেতৃত্বের কথা বলা আছে প্রথম ইসলাম কায়েমের জন্য সম্মুখ যুদ্ধে বিবি সুমাইয়া শহীদ হয়েছিলেন এবং প্রথম ইসলাম গ্রহন করেছিলেন খাদিজা (রা:) নিজেই। তিনিও নারী শুধু তাই নয় একমাত্র মায়ের পায়ের নীচে সন্তানের বেহেশতের কথা বলা হয়েছে । ইসলাম নারীকে মর্যাদা দিয়েছে কিন্তু আজ পদে পদে নারীর মর্যাদা প্রশ্নবিদ্ধ । আমি ফেসবুকে ছবি দিলে কেউ কেউ লিখে আপনার মাথায় কাপড় নাই আপনি বেপর্দা, কিন্তু বিস্ময়কর হলো, যখন তার ছবির দিকে তাকাই, দেখি তার মাথায় কিন্তু তার মাথায় টুপি নাই, ওয়েস্টার্ন ড্রেস পরা । যেমন খালেদা জিয়া বলে আমি মুসলমান, আমি ধর্মের প্রতি আনুগত্য আর শেখ হাসিনা ও তার দল হিন্দুদের দল।
 13217491_878237145620610_5145439088201395157_o
বাস্তবতা কি দেখি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পর্দার সাথে চলেন,পাশাপাশি ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন,সহজ সরল একজন খাটি বাঙ্গালি নারী । আর খালেদা জিয়া মেকাপ ব্যতীত চলেনই না । আমরা যখন জামায়াত বিএনপি দ্বারা নির্যাতিত হতাম ২১ দিনের বাচ্চা রেখে গ্রেফতার হয়েছিলাম, তখন নারী হিসেবে আমাদের পাশে কাউকে পাইনি। কেউ নারী নির্যাতনের ব্যপারে মুখ খুলেন না । আওয়ামী লীগের নারী নেত্রীদের চোখে মনে হয় তারা নারী না। নারীর প্রতি সহিংসতা তখনই বন্ধ হবে যখন সর্বস্তরের নারীরা নারী ইস্যু নিয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধ হবো । সংরক্ষিত আসন করা হয়েছে নারী ক্ষমতা নিশ্চিত করার জন্য কিন্তু তিনটি ওয়ার্ডে মহিলাকে নির্বাচন করতে হয় আর পুরুষ সাধারন আসন হিসাবে একটি ওয়ার্ডেই নির্বাচন করেন । মেয়েরা এত কষ্ট করে তিনটি ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হওয়ার পরও ক্ষমতা তাদের সাধারন আসনের চাইতে কম থাকে, এটাই বাস্তবতা । সরকার প্রধান নিজ উদ্যোগে নারীর ক্ষমতায়নের জন্য দিনরাত করে যাচ্ছে কিন্তু আমরা নারীরা যদি আমাদের দাবীর পক্ষে জোরালো আন্দোলন করতে না পারি, তবে প্রাপ্তি আসবে কি করে ? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন একটি গোষ্ঠীকে পিছনে রেখে জাতীর উন্নয়ন সম্ভব না । মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত ইচ্ছায় নারী উন্নয়নে বাংলাদেশ আজ রোল মডেল হয়েছে । আজকের বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ হয়েছে তাঁর একান্ত উদ্যোগে । মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একার ইচ্ছায় নারীর সম অধিকার সর্বত্র নিশ্চিত করা সম্ভব না । আগে আমাদের মানে নারীকেই তাদের অধিকারের ব্যপারে সচেতন হতে হবে । একজন নারী ভাল করলে হিংসে প্রথম নারীই করে। এর কারন নির্যাতিত হতে হতে নারী নিজেকে দুর্বল ভাবার কারনে অন্য নারীর অগ্রগতি ভাল চোখে দেখে না । পারিবারিকভাবে কন্যা শিশু নিকট আত্মীয় বা প্রতিবেশী এমন কি রাস্তায় চলার সময় নির্যাতনের স্বীকার হয় ।এভাবে যুগ যুগ ধরে নারী সহিংসতার স্বীকার হয়ে আসছে। এটা বন্ধে সামাজিক সচেতনায় পরিবারের কাউন্সিলিং জরুরী । কিছু সম্পর্কের অসৎ ব্যবহার নারীকে ভোগ্যপন্য বানানোর হাতিয়ার করা হয়েছে, যেমন শালী-দুলাভাই দুষ্টুমি জায়েজ এ অজুহাতে কুৎসিত মন বাসনা একটু ছোঁয়া আরও কত কি ? নানা -নাতনী ,বেয়াই -বেয়াইন এমন সম্পর্কের আড়ালে নারীর প্রতি অনেকের কামুক মনোভাব থাকে কিন্তু লজ্জায় বা অন্যরা কি ভাববে তাই মুখ খুলে না অনেকে । নারীকে এ ব্যপারে সাহসী হতে হবে, প্রতিবাদ করতে হবে তবেই রক্ষা পাবে নারী সমাজ । নারী দিবসে এটাই বলতে চাই এ পৃথিবীতে যা কিছু কল্যানকর তার অর্ধেক করেছে নারী অর্ধেক তার নর । আসুন সকলে আমরা এ দেশটাকে গড়ে তুলি। নারীসমাজকে অভিনন্দন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলি । জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।


Related posts

মন্তব্য করুন