সর্বশেষ সংবাদ

এক সময়ে প্রমক্তো ইছামতি নদী আজ মৃতপ্রায়।

 

 

রানা ভূঁইয়া
সুজাপুর, নবাবগঞ্জ, ঢাকা।

এক সময়ে সদরঘাট শ্রীনগর লঞ্চ চলতো ইছামতি নদী দিয়ে। আজ এটি ইছামতি নদী যেন নয় -এটি একটি সরু খাল। সদরঘাট-বান্দুরা লাইনেরর লঞ্চ সৈয়দপুরে আসার পর দুটি ভাবে বিভক্ত হয়ে যেতো।

এক সময়ে প্রমক্তো ইছামতি নদী আজ মৃতপ্রায়।

একটি বান্দুরা চলে যেতো। আর অপরটি সেকানগর হয়ে শ্রীনগরে চলে যেতো। সেটি ছিলো আলাদা রোমাঞ্চাকর। লঞ্চের ঝালমুড়ি, বাদামী, গেন্ডারী, আমড়া, কলা, রুটি আরো কত কি যে পাওয়া যেতো আজে শুধু ধুঁ ধুঁ করে স্মৃতির পাতায়। অনেকে সুন্দর সুন্দর গান গেয়ে বেড়াতো। একতারা দিয়ে আর বামা দিয়ে সন্দুর সুন্দর ভাওয়াইয়া, মুর্শেদীসহ অনান্য লোকজ সঙ্গীত গেয়ে শুনাতো। ইছামতির এই শাখাটি সম্পূর্ন দখল হয়ে গিয়োছে। অথচ এক সময় পদ্মা নদীর সাথে শাখা নদী হিসাবে যুক্ত ছিলো। খাকসুর ব্রীজের নদী ঘেষা বিশাল অংশ জুড়ে মার্কেট তৈরী হয়েছে। এভাবে পুরো নদীটি এখন খালে পরিনত হয়েছে। ইছামতির এই অংশে বেঁদের নৌকা বেশী দেখা যেতো। শত শত বেঁদের নৌকা দিয়ে গ্রামে গ্রামে গিয়ে চুুঁড়িসহ বিভিন্ন সাজসজ্জার জিনিসপত্র নিয়ে ফেরী করে বেড়াতে। নৌকায় রান্নাসহ জীবন যাত্রা সব কিছু্ ঐ ছোট নৌকার মধ্যেই চালিয়ে যেতো। এখনো কিছু কিছু বেঁদের নৌকা দেখা যায়। কালক্রমে পেশায় পরিবর্তন এনেছে। গ্রাম দেশে বৌদ্দি বলে ডাকতো। গ্রামের নিরীহ মানুষের সিংগা লাগিয়ে ব্যথা নিরাময় করতো।
দোহার-নবাবগঞ্জ চিরচেনা পথগুলো এদের বিচরন চিলো। এখন নদীও নেই এদের জীবিকাও নেই।
আমাদের স্মৃতিতে আজো ভেসে আসে এদের জীবন যাত্রা ও চলাফেরার কথা।
বর্তমান প্রজন্মের কাছে হয়তো এটি গল্পের মতো মনে হতে পারে।
যুগ পাল্টিয়েছে, পাল্টিয়েছে রুচিভোধ এর সাথে হারিয়ে যেতে বসেছে নদী পথগুলো।

পথিকের গান আবারও গেয়ে না হয় বিদায় নিয়ে নিচ্ছি-

” আমার একটি নদী ছিলো দেখলো নাতো কেউ,
এইখানে এক নদী ছিলো দেখলো নাতো কেউ।”



Related posts

মন্তব্য করুন