সর্বশেষ সংবাদ

নবাবগঞ্জে কৈলাইলে বাঙ্গির বাম্পার ফলন কৈলাইল ভাঙ্গাভিট ঘুরে

 

 ফিরোজ হোসেনঃ

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার কৈলাইল ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ভাঙ্গাভিটায় মাঠের পর মাঠজুড়ে চাষ করা হয়েছে বাঙ্গির। এখন চলছে মাঠ থেকে বাঙ্গি তোলার উত্সব। নবাবগঞ্জে অনান্য ইউনিয়নে বাঙ্গি চাষ না হলে ও কৈলাইল ইউনিয়নের ভাঙ্গাভিটা সহ বিভিন্ন গ্রামে বাঙ্গি চাষ হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী বাঙ্গি ।

নবাবগঞ্জে কৈলাইলে বাঙ্গির বাম্পার ফলন কৈলাইল ভাঙ্গাভিট ঘুরে

চলতি মৌসুমে বর্তমানে এখন বাঙ্গির সুমিষ্ট ঘ্রাণ। মাঠের পর মাঠজুড়ে চাষ করা হয়েছে বাঙ্গির। ভোর না হতেই বহু নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরকে বাঙ্গি তুলতে দেখা যায়। সাধারণত মার্চ-এপ্রিল মাসে এ দৃশ্যের দেখা মেলে। সরেজমিনে জানা যায়, এ গ্রামের ৮৫ শতাংশ মানুষ কৃষিজীবী। এ গ্রামে গিয়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বংশপরম্পরায় প্রায় ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এখানে বাঙ্গির চাষ হচ্ছে। সরেজমিনে ঘুরলে ভাঙ্গাভিটা গ্রামে একজন কৃষকও পাওয়া যাবে না, যিনি বাঙ্গি চাষ করেন না। তার জানান, তাঁদের দ্বিতীয় অর্থকরী ফসল বাঙ্গি। বাঙ্গির অন্য নাম খরমুজ, কাঁকুড়, ফুটি বা বাঙি। দেশের প্রায় সব এলাকাতেই গ্রীষ্মকালে বাঙ্গি জন্মে। তরমুজের পর এটিই অধিক প্রচলিত শসাগোত্রীয় ফল। মৃত্যুঞ্জয় রায় তাঁর বাংলার বিচিত্র ফল বইয়ে উল্লেখ করেছেন, ধারণা করা হয়, বাঙ্গির জন্ম ইরান বা আফগানিস্তানে। আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়াতেও এ ফলের চাষ করা হয়। বাঙ্গিগাছ দেখতে অনেকটা শসাগাছের মতো, লতানো। কাঁচা ফলের রং সবুজাভ। কাঁচা বাঙ্গি সবজি হিসেবে রান্না করে খাওয়া যায়। ফল পাকলে হলুদাভ হয়। পাকা ফলের সুমিষ্ট সৌরভ আছে। এটি স্বতন্ত্র স্বাদের। ফলের ওজন এক থেকে চার কেজি পর্যন্ত হতে থাকে। দেশে প্রধানত দুই জাতের বাঙ্গি দেখা যায়—বেলে ও এঁটেল বাঙ্গি। বেলে বাঙ্গির শাঁস নরম। খোসা খুব পাতলা, শাঁস খেতে বালি বালি লাগে, তেমন মিষ্টি নয়। অন্যদিকে বর্তমান মৌসুমে ভাংগাভিটায় এটেল বাঙ্গির চাষ হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকেরা জানান, প্রতিটি বাঙ্গি পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে ১০ – ১৫ টাকা দরে বিক্রি করছি। চলতি মৌসুমে পূর্বে আবহাওয়া অনুকূল ভালো থাকায় এবার বাঙ্গির ফলন ভালো হয়েছিল। কিন্ত গত সপ্তাহে বছরে প্রথম শীলা বৃষ্টির কারনে বাঙ্গির অনেকটাই ক্ষতি হয়েছে এবং গত বছরের তুলনায় এবছর অনেকটাই লোকসান গুনতে হচ্ছে।



Related posts

মন্তব্য করুন