সর্বশেষ সংবাদ

মন্ত্রী-এমপিদের মধ্যেও ‘কাউয়া’ আছেন – যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী।

 

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের পর সাম্প্রতিক সময়ে রাজনীতিতে আলোচিত ‘কাউয়া তত্ত্ব’ নিয়ে কথা বলেছেন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী।  মন্ত্রী-এমপিদের মধ্যেও ‘কাউয়া’ আছেন এমন মন্তব্য করেছেন যুবলীগ চেয়ারম্যান। 

যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী

শুক্রবার (৩১ মার্চ) চট্টগ্রাম সফরে আসা যুবলীগ চেয়ারম্যান নগরীর একটি হোটেলে সংবাদকর্মীদের মুখোমুখি হন।

সংগঠনে কোন্দলের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, …এখন আত্মঘাতী কথা বলতে ইচ্ছে হচ্ছে।  আমরা এখন বক্তৃতার মধ্যেও কাউয়া তত্ত্ব নিয়ে আসি।  অথচ কাউয়া হচ্ছে পরোপকারী।  কাউয়ার মতো ভ্রাতৃত্ববোধ পৃথিবীর আর কোন প্রাণীর মধ্যে নেই।

‘বাংলাদেশের প্রায় মন্ত্রী, প্রায় এমপি, প্রায় উপদেষ্টা বলেন, এদের মধ্যেও তো কাউয়ারা আছেন। ’

‘আল্লাহর ওয়াস্তে যদি না লিখেন, লিখলেও আমার কিছু যায় আসে না। ’ সংবাদকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলে ওমর ফারুক চৌধুরী

‘এই যে কাউয়া তত্ত্ব বললেন, ঘরের ভেতরে ঘর বানানো যাবেনা-চলবে না বলা হল, ভাল কথা।  ঘরের ভেতর ঘর তৈরি যে হয়ে গেছে সেটা নিয়ে কথা বলেন না কেন ? মশারির ভেতরে মশারির কথা বলেন, ভাল কথা।  কিন্তু সেগুলো তো ঠিক করা দরকার। ’

‘আসলে আমরা সমর্থন চাই, পরামর্শ শুনি না।  সরকারের কাছে চিকেন আছে, খাইতে তো আসবেই।  হাড্ডি খাইতেও আসবে কাউয়ারা, মাংস খেতেও আসবে।  কিন্তু সেটা তো হাইকমান্ড ঠিক করবে কাউয়াদের জায়গা। ’

‘বক্তব্য অনেক দেয়া যায়।  আমরা বাদির কথা শুনি, বিবাদির কথা শুনি না।  অথচ আমাদের কাজ হচ্ছে আমাদের বিষয় হচ্ছে, মশারির ভেতরে যাতে কেউ মশারি টানতে না পারে সেটা দেখা।  ঘরের ভেতরে ঘর যাতে কেউ বানাতে না পারে, সেটা দেখা।  কোন্দলগুলো মেটানো।  সেটা কি আমরা করছি ?’

তৃতীয়বার নির্বাচনে জিতে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে হলে ‘ঘরের ভেতরে ঘর’ আর ‘মশারির ভেতরে মশারি’ বক্তব্যের চেয়েও এর অবসান জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন যুবলীগ চেয়ারম্যান।

গত ২২ মার্চ সিলেটে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভায় ওবায়দুল কাদের ‘কাউয়া’ শব্দ উচ্চারণ করে বক্তব্য দেয়ার পর থেকে গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়।  ওই প্রতিনিধি সভায় কাদের বলেন, ‘প্রচার লীগ, তরুণ লীগ, কর্মজীবী লীগ, ডিজিটাল লীগ, হাইব্রিড লীগ আছে। কথা হাছা, সংগঠনে কাউয়া ঢুকছে। জায়গায় জায়গায় কাউয়া আছে।  পেশাহীন পেশিজীবী দরকার নেই। ’

এরপর ২৫ মার্চ রাজধানীতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ আয়োজিত গণহত্যা দিবসের আলোচনা সভায়ও ওবায়দুল কাদের একই প্রসঙ্গে বক্তব্য দেন।  এছাড়া ‘ঘরের ভেতরে ঘর’ এবং ‘মশারির ভেতরে মশারিও’ ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যে প্রায়ই শোনা যায়।

যুবলীগের নেতাকর্মীদের বিভাজন সম্পর্কে সবসময় সতর্ক করে আসছেন বলে জানালেন ওমর ফারুক চৌধুরী।

‘২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত আসার পর যে অত্যাচার শুরু করেছিল, আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গ্রাম ছাড়া হয়েছিল। আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে কর্মীদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খুলতে হয়েছিল।  এবার যদি জিততে পারে তাহলে বিএনপি যে কি অত্যাচার শুরু করবে তা ভাবাই যায় না।  অনেকে বলে যে, বিএনপি যদি নির্বাচনে জিতে তাহলে তিন মাস নাকি কোন সরকারই থাকবে না। ’

‘নেতাকর্মীদের বারবার বলছি যে, বিএনপি-জামায়াতের অত্যাচার বিস্মৃত হওয়া আর আত্মহননের পথ বেছে নেওয়া একই কথা।  কর্মীদের মধ্যে এই চেতনাবোধ আমাদের জাগাতে হবে।  কিন্তু সেটা আমরা পারছি না। ’

তিনি বলেন, রাজনীতিতে মতভেদ থাকবে, কিন্তু পরস্পরকে সম্মান করতে হবে।  শত্রুর সঙ্গে যদি আমি দিনে একবার হ্যালো করি, তাহলে সেই শত্রু  মিত্রে পরিণত হয়।  আর মিত্রের সঙ্গে যদি মাসে একবার কথা না বলি সেই বন্ধুত্ব থাকবে না।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে বিএনপির জয়কে কিভাবে দেখছেন, জানতে চাইলে ওমর ফারুক বলেন, সত্য কথা সবসময় বক্তৃতার মতো শোনায়।  মিথ্যা শোনায় কবিতার মতো।  এই বাস্তবতাকে কিভাবে অস্বীকার করব ? এখন যিনি সন্ত্রাস করেন তিনি সবচেয়ে জনপ্রিয়।  ভদ্রলোক কখনো জনপ্রিয় হতে পারে না।

‘বিশ্বজুড়ে এখন যেটা চলছে যে যত বেশি নেগেটিভ কথা বলতে পারবেন, তিনি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়।  দেখেন ট্রাম্প, মোদি।   যে যত বেশি উদ্ভট কথা বলতে পারবে সে-ই জনপ্রিয়। ’

‘দিনে অভিযোগ, রাতে সাক্কু জয়ী।  দিনে অভিযোগ, রাতে চুপ।  এই তো বিএনপি।  সাদাকে কালো বলার অভ্যাস, এরই নাম বিএনপি।  রিজভি সাহেব কত কথাই বললেন, অথচ বাস্তবতার সাথে তো কোন মিল নেই।  অগণতান্ত্রিক শক্তিরও একটা সমর্থক গোষ্ঠী আছে।  এটা অস্বীকার করার কিছু নেই।  এটা আবার একটা শিক্ষাও তো হতে পারে। ’

তিনি বলেন, বিএনপির জয় হতেই পারে।  এই যে টবে গাছ আছে সেটাও তো সুন্দর।  কিন্তু মাটির সঙ্গে তো ‍তার স্পর্শ নেই।

প্রসঙ্গক্রমে যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, আওয়ামী লীগ কিংবা শেখ হাসিনার সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয়ভাবে ভোটের অধিকার হরণের কোন প্রমাণ নেই।  একজন সংসদ সদস্য প্রার্থী হয়ত তার এলাকায় কোন ঘটনা করতে পারে।  জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ত্রুটিবিচ্যুতি থাকতে ‍পারে, হামলা কিংবা অন্যান্য ঘটনা হতে পারে।  কিন্তু রাষ্ট্রীয়ভাবে এমন ঘটনা হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের আগে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উত্তেজিত করতে পরিকল্পিতভাবে ‘জঙ্গি উত্থান’ হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন যুবলীগ চেয়ারম্যান।

‘দেখেন, শেখ হাসিনা যে ভারত সফরে যাচ্ছেন তখনই কিন্তু জঙ্গিবিরোধী এই অপারেশনগুলো বাড়ল।  জঙ্গিদের আস্তানাগুলোর কি অবস্থা দেখেন।  অর্থাৎ মানুষের মনযোগ ভিন্নখাতে নেয়া।  আমাদের উত্তেজিত করা, আমরা যেন ভারত সম্পর্কে কটুক্তি করি। ’

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়াই এই জঙ্গি উৎপাদনকারী কারখানার মালিক।  এটা বেগম খালেদা জিয়ার মানসিক, আদর্শিক ও নীতিগত অবস্থান।  জঙ্গি হচ্ছে বাংলাদেশের ভেতরের কাঁচামালে বাংলাদেশের কারখানায় পাকিস্তানি যন্ত্রে তৈরি।  সব জঙ্গি তো হোম মেইড।  কোথায় আইএস ? মেড বাই বিএনপি-জামায়াত।  আইএস ব্র্যান্ড তারা ব্যবহার করছে।  কারখানার মালিক কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া।

শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রামে পৌঁছে নগরীর আগ্রাবাদ হোটেলে তিনি যুবলীগের উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগরের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

শনিবার সকালে সন্দ্বীপ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে যুবলীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেয়ার কথা রয়েছে ওমর ফারুকের।  বিকেলে তিনি চট্টগ্রামে ফিরে আসবেন।

এর মাঝে শুক্রবার রাতে যুবলীগ চেয়ারম্যান পারিবারিক একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন নগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ মাহমুদ।



Related posts

মন্তব্য করুন