সর্বশেষ সংবাদ

মানিকগঞ্জে সাটুরিয়ার বরাইদ ইউনিয়নে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুরকে ৮ লাখ টাকা জরিমানা!

জেলার সাটুরিয়ার বরাইদ ইউনিয়নের পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এতে ইউনিয়ন পরিষদে সালিশ করে শ্বশুরকে ৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তবে জরিমানার টাকা পুত্রবধূকে না দিয়ে উল্টো তার কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করেছেন ইউপি চেয়ারম্যানসহ বিচারক প্যানেল।

মানিকগঞ্জে সাটুরিয়ার বরাইদ ইউনিয়নে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুরকে ৮ লাখ টাকা জরিমানা!

পুত্রবধূ শশুরকে প্রধান আসামী করে সাটুরিয়া থানায় বৃহস্পতিবার দুপরে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন।

সাটুরিয়ার বরাইদ গ্রামের বাদল মিয়ার পুত্র শরিফের সাথে পাশের গ্রামের নিলুফার প্রায় দেড় বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের ৬ মাস পরে শরিফ দেশের বাহিরে চলে যায়। গৃহবধূ মাঝে মাঝে বাবার বাড়িতে গেলেও অধিকাংশ সময় শ্বশুর বাড়িতেই বসবাস করে আসছিলেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গৃহবধুর স্বামী বিদেশে যাওয়ার পর থেকে শ্বশুর নানাভাবে বিরক্ত করতেন। সর্বশেষ ২৩ মার্চ রাতে শাশুড়ির অনুপস্থিতিতে তার ওপর যৌন নির্যাতন চালায়। বিষয়টি জানার পর তার বাবা বরাইদ ইউনিযন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুনর রশিদের কাছে অভিযোগ করেন। এর একদিন পর ২৪ মার্চ ইউনিয়ন পরিষদ অফিসে বিচার ডাকা হয়। বিচারে উপস্থিত ছিলেন অভিযুক্ত শ্বশুর বাদল মিয়া। বিচারে ১১ সদস্য বিশিষ্ট একটি বিচারিক প্যানেল রায় ঘোষণা করেন। এতে বলা হয় বাদল মিয়াকে ৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সাত দিনের মধ্যে তাকে ওই টাকা জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।

Image may contain: text

গৃহবধু জানান, বিচারে টাকা চাইতে গেলে উল্টো তার বাবার কাছে আগে দুই লাখ টাকা দাবি করেন চেয়ারম্যান। ওই টাকা দেয়ার পর ৮ লাখ টাকা দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

এব্যাপারে বরাইদ চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ জানান, বিচারের ৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে কিন্তু ওই টাকা আদায় হয়নি। আর গৃহবধুর বাবার কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করার কথা অস্বীকার করেন।

ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত শ্বশুর বাদল মিয়া জানান, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। বিচারে আমাকে একতরফাভাবে ৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে পুত্রবধূ কেন তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে, তার কোন উত্তর তিনি দেননি।

সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ ফারজানা সিদ্দিকী বলেন, একজন ইউপি চেয়ারম্যানে ধর্ষণ মামলার বিচার বা রায় দেওয়ার এখতিয়ার নেই।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমিনুর রহমান জানান, শ্বশুর বাদলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেছে পুত্রবধূ নিলুফা বেগম। ধর্ষণের আলামত পরীক্ষার জন্য মেডিকেল চেকআপ করার জন্য পুত্রবধূকে হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।



Related posts

মন্তব্য করুন