সর্বশেষ সংবাদ

দোহার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার নামে চলছে ধান্দাবাজী বিপাকে অসহায় রোগী”

 

 

Image may contain: text

মো:আসাদ মাহমুদ

ঢাকার দোহার উপজেলায় থানা গেইটের সামনে অবস্থিত দোহারের সবচেয়ে বড় ৭তলা বিশিষ্ট একটি প্রাইভেই চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান”দোহার জেনারেল হসপাতাল”।এখানে চিকিৎসার নামে ব্যাবসা চলছে চরমে।

দোহার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার নামে চলছে ধান্দাবাজী বিপাকে অসহায় রোগী"

হাসপাতালটিতে আছেন শুধুমাত্র একজন অর্থোপেডিকস্ ডাক্তার যিনি প্রতি শুক্রবার চেম্বার করেন সকাল ১০:০০ টা থেকে বিকেল ৫:০০ টা পর্যন্ত।তিনি ১৮০/২০০ টাকার ক্যালসিয়ামের প্রতিটি ইঞ্জেকশন দিয়ে রোগীর কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে ২০০০/২৫০০ টাকা করে।যার ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে অসহায়-দরিদ্র নিরীহ মানুষের।পাশাপাশি এই টাকায় কোনো রোগী যদি ইঞ্জেকশন দিতে আগ্রহী না হন তবে, ডাক্তারের খারাপ আচরন ভোগ করতে হয় ।নাম বলতে অনিচ্ছুক এক রোগী জানান”গত জানুয়ারি মাসের ০৬ তারিখ শুক্রবার ডাক্তার শেখ ফরহাদ নামে একজন অথোপেডিকস্ সার্জন যিনি দোহার জেনারেল হাসপাতালে প্রতি শুক্রবার চেম্বার করেন।তার কাছে আমার পায়ের হাটু ব্যাথার জন্য গেলে তিনি প্রথম সপ্তাহে ঔষধ খেতে দেন,কিন্তু ওই ওষধ এ কোনো রকম পরিবর্তন না আসায় পরের সপ্তাহ ১৩ই জানুয়ারি গেলে তিনি ২৫০০ টাকা দামের ৩ মাসে ৩ টি ইঞ্জেকশন দিতে বলেন কিন্তু আমার কাছে অত টাকা না থাকায় আমি তাকে ১৫০০ টাকার কথা বলি এতে তিনি রাগান্বিত হয়ে আমায় বলেন শুধুমাএ ঔষধ খেলেই সুস্থ হয়ে যাবেন!আর বলেন কখনো যেন তার কাছে না যাই,তার কাছে আসলে অনেক টাকা লাগবে,তিনিই এ দেশের সবচেয়ে বড় ডাক্তার”।এতটুকুই শেষ নয় যেকোনো প্লাস্টার করতে নিচ্ছেন ৩০০০/৫০০০ টাকা পর্যন্ত।যেখানে প্লাস্টার খরচ মাএ ৫০০/৭০০ টাকা।এ বিষয়ে দোহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে এম আল-আমিনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন”বিষয়টি আমার অঞ্জাত,তবে এই নিয়ে কোনো সংবাদ হলে আমি সেই পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাটির সত্যানুসন্ধান করব।যদি ঘটনাটি সত্য বলে প্রমাণিত হয় তবে আমি নিজ দায়িত্বে তার সুরাহা করব।

এই রকম ডাক্তার সাধারণ জনগনদের ক্ষতি করে,তাদের বোকা বানিয়ে তাদের কাছ থেকে অহেতুক টাকা আদায় করছে এই বিষয়ে বিশেষ ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে”।দোহায় উপজেলা স্বাস্থ্য অফিসার ডা:জসীমউদ্দিন বলেন”দোহারে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসার নাম করে অনেক ডাক্তাররাই ১৮০বা২০০টাকা দামের কিছু ক্যালসিয়ামের ইঞ্জেকশন দিয়ে ২০০০থেকে৩০০০টাকা পর্যন্ত নিচ্ছেন।মূলত তাদের দাবি তারা ঢাকা থেকে আসে এবং তারা সার্জন,বড় ডাক্তার বলে তারা এই মাএাতিরিক্ত টাকা আদায় করছে।একজন মানুষ সেবার মহৎ পেশাকে অপমানিত করছে।এই বিষয়ে আমি একা কিছুই বলতে পারছিনা কারন আমি ছাড়া বাকি সবাই এক!তবে খুব শীঘ্রই আমরা এক কমিটি গঠন করব সেই খানে এই সকল ডাক্তারদের অহেতুক টাকা আদায় বন্ধ করে দেওয়া হবে”।এই বিষয়ে ডাক্তারের কাছে ইঞ্জেকশন নিতে আসা আরতি গমেজ জানান, ডাক্তার শেখ ফরহাদের কাছে তিনি তার হাটুর ব্যাথার জন্য গেলে ডাক্তারের পরামর্শে ৩মাসে ৩টা ইঞ্জেকশন দেন,যার প্রতিটির দাম ২৫০০ টাকা করে নেয়া হয়। মুলত এর দাম মাএ ১৮০/২০০টাকা ।পাশাপাশি ডক্টর ফি বাবদ প্রতিটি ইঞ্জেকশন সহ প্রতিবার তাকে ২৮০০/৩০০০ টাকা করে দিতে হয়েছে”।এই বিষয়ে দোহার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ সিরাজুল ইসলাম (পি,পি,এম )এর সাথে আলোচনা করলে তিনি জানান”বিষয়টি আমার জানা নেই,এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ করা হয়নি,তবে কোনো অভিযোগ করা হলে বিশেষ ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে”।তিনি আরো বলেন”ডাক্তার হলো মানুষ সেবার মহৎ পেশা,তবে এই পেশার নাম ভাঙ্গীয়ে যেই সকল ডাক্তার চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে ব্যাবসা করছে তাদের প্রতি খুব শীঘ্রই কঠিন আইনি ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে”।

 



Related posts

মন্তব্য করুন