সর্বশেষ সংবাদ

নবাবগঞ্জে বোরো মৌসুমে ব্রি ধানের বাম্পার ফলন,তবুও কৃষক হতাশ!

আলীনূর ইসলাম মিশু

ঢাকা নবাবগঞ্জ উপজলোর চলতি বোরো মৌসুমে ধানের ফলন ভালো হলেও বাজার মূল্য নিয়ে চিন্তিত আছেন এই উপজেলার কৃষকরা। উৎপাদন খরচ ঘরে তুলতে পারবে কি পারবে না তা নিয়ে দ্বিধাগ্রস্থে আছে তারা। ধান চাষ করে লাভের পরিবর্তে কয়েক বছর ধরে গুণতে হচ্ছে লোকসান।

নবাবগঞ্জে বোরো মৌসুমে ব্রি ধানের বাম্পার ফলন,তবুও কৃষক হতাশ!

এ কারণে ধান চাষে দিন দিন আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন এ উপজেলার কৃষকরা। ইতোমধ্যেই উপজেলায় চলতি ইরি-বোরো মৌসুমের ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ শুরু হয়েছে পুরোদমে। চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলনের মাঠ দেখে কৃষকরা আশায় বুক বাঁধলেও বাজারে ধানের মূল্য নিয়ে সে আশা হতাশায় র�প নিয়েছে। ধানের দাম নিয়ে শĽায় পড়েছেন নবাবগঞ্জ উপজেলার কৃষকরা। ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক ও কৃষাণীরা। তাদের যেন দম ফেলার সময় পর্যন্ত নেই। যত তাড়াতাড়ি পারা যায় কালবৈশাখী ঝড়ের আগেই তাদের কষ্টের ফসলকে ঘরে তুলতে চান তারা। এদিকে কিছু নিচু জমি ও নিঁচু এলাকায় ধান প্লাবিত হয়ে গেছে বৃষ্টির পানিতে। পানি বিষাক্ত হয়ে যাওয়ায় কৃষাণের অভাব দেখা গেছে। ঘরে ফসল তুলতে বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে ধান চাষীদের। যদি কৃষকরা তাদের ধানের নায্যমূল্য না পান তাহলে কৃষকদের ব্যাপক লোকসান গুণতে হবে। নবাবগঞ্জ উপজেলায় চলমান বোরো মৌমুমে ব্রি ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলায় ১৪ টি ইউনিয়নের ৪২ টি কৃষি ব্লকে এবার ব্রি ধানের চাষ করেন স্থানীয় কৃষকরা। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের সুত্রে জানা যায়, এবার এসএল ৮, ব্রিধান ২৮, ব্রিধান ২৯, ব্রিধান ৫০, ব্রিধান ৫৮, ব্রিধান ৫৯, ব্রিধান ৬২, ব্রিধান ৬৪, বিনা ৮ জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। নবাবগঞ্জে উপজেলায় ১১ হাজার ২২৫ হেক্টর জমিতে ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১১১৯৭ হেক্টর। ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় উৎপাদন হয়েছে ১১২২০ হেক্টর। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪০হেক্টর বেশি। সব চেয়ে ভাল ফলন হয়েছে ব্রি ২৯ ধানের। উপজেলার কৈলাইল ইউনিয়নের ধান চাষী বাদল জানান, আমি ব্রি ধান ২৯ রোপন করে বিঘা প্রতি ১৯ মণ করে ধান পেয়েছি। নবাবগঞ্জ উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের আরিফ হোসেন বলেন, “প্রায় ৭ বিঘা জমিতে তিনি এই মৌসুমে ব্রি ধানসহ বিভিনś জাতের হাইব্রিড ধান চাষ করেছেন। কোনো রোগবালা ছাড়াই ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এদিকে কৃষাণ পাওয়া যাচ্ছে না ধান কাটার জন্য। জনপ্রতি ৭০০/৮০০ টাকা দিয়েও কৃষাণ পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। কিন্তু শংসয় হচ্ছে ধানের মূল্য নিয়ে। সরকার সরাসরি আমাদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করলে আমরা একটু হলেও লাভবান হবো।

বর্তমানে ধানের বাজারে দামের যে দরপতন তাতে কৃষকরা লোকসানের মুখে পড়বে। তাই আমাদের মতো কৃষকদের কথা ভেবে সরকারের উচিত ধানের মূল্য বাড়ানো। তা না হলে কৃষকরা মাঠে মারা যাবেন।” নবাবগঞ্জে ধানের বাম্পার ফলন সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল আমিন জানান, “চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলার মাঠে মাঠে বোরো ধান কাটা চলছে। তবে সম্প্রতি হয়ে যাওয়া শিলা বৃষ্টি আর ঝড়ের কারণে বেশি পরিমাণ ইউরিয়া সারের কারণে বিছিন্ন ভাবে কিছু কিছু জমির ধান পড়ে গেছে। আর পড়ে যাওয়া এই সব জমির ধান প্রথম দিকে ব্লাষ্ট রোগে আক্রান্ত হলেও যথা সময়ে ওষুধ প্রয়োগে ফলনে তেমন কোনো ক্ষতির প্রভাব পড়েনি। ধানের ফলন অধিক হওয়ায় কৃষকরা সামান্য এই ক্ষতি সহজেই পূরণ করতে পারবেন। উপজেলার ৪২ টি কৃষি ব্লকে ৩৭ জন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ কৃষকদের কীটনাশক ব্যবহার, পোকামাকড় ব্যবস্থপনা উপর প্রশিক্ষণ প্রদাণ করছেন। যার ফলে আগে চেয়ে ফলন বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে কৃষক ও কৃষির উন্নয়নে কাজ করছে। সার বীজের সংকট নেই দেশে।



Related posts

মন্তব্য করুন