সর্বশেষ সংবাদ

দোহারে পদ্মা বাধ নির্মাণের নামে পদ্মা নদীতে চলছে লুটপাটের মহোৎসব ও অনিয়মের অভিযোগ

 আলীনূর ইসলাম মিশু
ঢাকার দোহার উপজেলায় পদ্মা বাধ প্রকল্প নির্মাণে ধীরগতি ও অনিয়েমের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্প কাজের আশানুরূপ সাড়া না পেয়ে নদী ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষগুলো চরম হতাশা রয়েছে। দোহার উপজেলার নয়াবাড়ী ইউনিয়নটি রাক্ষুসী পদ্মার তীরে অবস্থিত।
দোহারে পদ্মা বাধ নির্মাণের নামে পদ্মা নদীতে চলছে লুটপাটের মহোৎসব ও অনিয়মের অভিযোগ
গত দুই যুগে শত বছরের পুরনো বসতভিটেসহ বিভিন্ন সহায় সম্বল হারিয়েছে প্রায় বিশ থেকে ২২ হাজার পরিবার। ঘরবাড়ি হারা এসব ছিন্নমূল পরিবার গুলো মানবেতর জীবন যাপন করতে বিভিন্ন স্থানে মাথা গোজার ঠাঁই করে নিয়েছে। সেই পদ্মার ভাঙন রক্ষায় হাজারো পরিবারে হাহাকার রোধে কেউ এগিয়ে আসেনি গত দুই দশকে। অবশেষে ২০১৪ সনের নির্বাচনী ওয়াদা দেন সাবেক মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বর্তমান দোহার নবাবগঞ্জের জনগণের ভোটে নির্বাচিত সাংসদ অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম। এর পরিপ্রেক্ষিতে আশার সঞ্চার হয় ওই এলাকার মানুষের। একাধিকবার সংসদে ও তার বাইরে এ দাবী নিয়ে সোচ্চার হন তিনি। ফলে ২০১৬ সনে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা, পানি সম্পদ মন্ত্রী ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর সার্বিক সহযোগিতায় ২১৭ কোটি ৬২লাখ টাকার প্রকল্প বরাদ্ধ হয়। দুই যুগের অবসান ঘটিয়ে সালমা ইসলাম এমপির প্রচেষ্টায় ভাগ্য খুলে দোহারবাসীর। শুরু হয় পদ্মা রক্ষা বাধ নির্মানের কাজ। নৌবাহিনীর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ‘ডকইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কার্স লি:” নির্মান কাজের দায়িত্ব পায়। গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর কার্যাদেশ পেয়ে সাব ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ‘হোসেন এন্ড সন্স’ কাজটি শুরু করেন। আগামী বছরের ৩০জুন কাজ সমাপ্তির কথা থাকলেও তা ঝিমিয়ে পড়েছে। ধীর গতিতে কাজ করায় পদ্মা পারের মানুষের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। তাদের দাবী আগামী বর্ষা মৌসুম কাজ বন্ধ থাকলে তা আরো দীর্ঘসূত্রতায় পড়বে।
ফলে ভাঙনের ভয় ও আতংক কুঁড়ে খাচ্ছে দোহারের নয়াবাড়ী ইউনিয়নের সাধারণ বাসিন্দাদের। অরঙ্গাবাদ থেকে বাহ্রাঘাট পর্যন্ত সাড়ে তিন কিলোমিটার নদীর তীর সংরক্ষণ কাজ শেষ কবে হবে এটা অনেকের কাছে অনিশ্চিয়তার প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। খোদ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ নিজেই স্বীকার করেন কাজের ধীরগতির কথা। তার সাথে সুর মেলালেন নৌবাহিনীর দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল বাসার। এরা দু’জনেই বলেন, কাজের মান নিয়ে নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। তবে ব্লক তৈরীতে নিম্মমানের সামগ্রী ব্যবহারের কথা বললে দুই দপ্তরের কর্মকর্তাই এড়িয়ে যান। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিম্নমানের ব্যাগ দিয়ে বালু ফেলা হচ্ছে যা অল্পদিনের মধ্যেই ফেঁটে গিয়ে ধসে পড়তে পারে এমন আশংকা স্থানীয়দের। এছাড়া ব্লক নির্মানে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্মমানের খোয়া ও পাথর। ধোয়াইর এলাকার বাসিন্দা মাওলানা কাদের বলেন, পদ্মা বাধের কাজ খুব ধীর গতি ও নিম্মমানের হচ্ছে। ব্লকে যে পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে তা খুবই খারাপ তুষের মতো। এভাবে উন্নয়নের নামে লুপাট হলে বাধ তো টেকসই হবে না। বাংলা বাজার এলাকার মো. মান্নান বলেন, বাধ নির্মাণে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি এক পা এগিয়ে, দুই পা পিছনে এই নীতির আলোকে কাজ করছে। যা বাধ নির্মানের নামে পদ্মা নদীতে চলছে লুটপাটের মহোৎসব। ইতিমধ্যে সাব ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা ও নজর না থাকায় নিম্নমানের পাথর ও নির্মান সামগ্রী ব্যবহার করে বাধের কাজ করছে। যার ফলে আগামী বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই ভেঙে যেতে পারে বাধের বিভিন্ন নির্মানাধীন অংশ । এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত হবে পদ্মা পারের মানুষ। তাদের আশংকা এই বাধ তাদের জন্য শেষ রক্ষা হবে কি না। সরেজমিনে দেখা গেছে, স্বল্প সংখ্যক অদক্ষ শ্রমিক দিয়ে চলছে বাধ নির্মানের কাজ। কোন নিয়ম কানুনের বালাই না থাকায় নামমাত্র দামে কেনা বস্তায় কোন মতে ড্যাম্পিং (বালুর বস্তা) বাধের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। আগামী ২০১৮ সালের জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। কিন্তু এত অল্প শ্রমিক দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব না বলে একজন নির্মাণ শ্রমিক দাবি করেন। ১৬ লাখ বালুর বস্তা ফেলে ড্যাম্পিং এর কাজ করার কথা থাকলেও এ পর্যন্ত মাত্র ৫ লাখ বালুর বস্তা ফেলা হয়েছে। এরই মধ্যে নদীতে শুরু হয়েছে জোয়ার। এ মৌসুমে আর কাজ করার কোনো পরিবেশও নেই।


ফলে দূর্ভোগ ও আতংকে দিন গুনছে নয়াবাড়ী ইউনিয়নের ৭টি গ্রামের বাসিন্দা। এ দিকে শ্রমিকের প্রাপ্য মজুরির সময় মতো পরিশোধ না করায় কাজে গাফলতি ও অবহেলা হচ্ছে বলে জানা গেছে। নৌবাহিনীর কাছ থেকে চুক্তিতে নেয়া সাব ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ‘হোসেন এন্ড সন্স” এর স্বত্তাধিকারী এম এ হালিম বাধ এলাকায় উপস্থিত থাকলেও এ প্রতিবেদকের সাথে দেখা করেননি। বার বার তাকে মুঠো ফোনে তাড়া দিলেও তিনি ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে অন্যত্র চলে যান। এলাকাবাসী জানান, পদ্মা রক্ষা বাধ নির্মাণে লোক দেখানো চেষ্টা করেছেন বিএনপি জামাত জোট সরকারের সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিষ্টার নাজমুল হুদা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের নিয়ে অনেকবার ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তাই জনগণের অসুবিধার কথা চিন্তা করে অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি’র প্রচেষ্টায় বাধের প্রকল্পটি পাস হয়। যা সঠিকভাবে বাস্তবায়নের দাবি এলাকাবাসীর।



Related posts

মন্তব্য করুন