“ব্যাংকে ২০ হাজার টাকার বেশি লেনদেনে ২০০ টাকা কর দিতে হবে। এই কথাটা ১০০% মিথ্যা।

No automatic alt text available.

এই মুহুর্তে বাজেটের সবচেয়ে আলোচিত দিক হল ব্যাংক একাউন্টে আবগারি শুঙ্ক। অনেকে অনেক রকম পোস্ট দিয়ে অনেক কিছু বুঝাইতে চাইছেন কিন্ত পুরা ব্যপারটা বুঝতে পারেন নাই…হুদাই বিভান্তি ছড়াইছেন।

"ব্যাংকে ২০ হাজার টাকার বেশি লেনদেনে ২০০ টাকা কর দিতে হবে। এই কথাটা ১০০% মিথ্যা।

এই ব্যপারে সবচেয়ে আলোচিত-সমালোচিত কথা হইল – “ব্যাংকে ২০ হাজার টাকার বেশি ব্যাংকে জমা দিলে বা তুললে প্রতি লেনদেনে কমপক্ষে ২০০ টাকা আবগারী কর দিতে হবে।” এই কথাটা ১০০% মিথ্যা বা ভুল।

সাধারনত সেভিংস বা কারেন্ট একাউন্টে সরকার মুলত দুই ধরনের শুঙ্ক বা ট্যক্স বা কর কাটে। প্রথমত, একাউন্টে জমা টাকার প্রাপ্ত লাভের উপর TIN ধারী হলে ১০%, TIN ধারী না হলে ১৫%।

দ্বিতীয়ত হল এক্সেস ডিউটি বা আবগারি শুঙ্ক। এই আবগারী শুঙ্ক কাটা হয় বছরে একবার। আবগারি শুঙ্ক বহু আগে থেকেই আপনার একাঊন্ট থেকে কাটা হয়। আমি শিঊর না মনে হয় ১৯৯৩/৯৪ সাল থেকে শুরু। তখন শুঙ্ক পরিমান অনেক কম ছিল তাই কারো গায়ে লাগে নাই…এই আবগারি শুঙ্ক আপানর একাঊন্ট থেকে কাটা হয় প্রতি বছরের শেষ দিনে মানে ৩১ ডিসেম্বর বা অনেক ব্যাংকে ১লা জানুয়ারি । আপনাদের একাঊন্ট চেক করলেই পাবেন। এইবার বাজেটে এই শুঙ্ক এর পরিমান বাড়ান হইছে এই যা।

এইবার আসেন কি হিসাবে বছরের শেষ দিনে একবারই শুঙ্ক কাটা হয় তা হিসাব করি। সারা বছর আপনার লেনদেন ঊপর ভিত্তি করে এই আবগারী শুল্ক কাটা হয়…বর্তমান বাজেটের প্রস্তাবনা মত হিসাবটা এই রকম…সারা বছর আপনার একাউন্টের ব্যালেনস যদি ১০০০০০ এর নিচে থাকে তাহলে কোন আবগারী শুল্ক দিতে হবে না, ব্যালেনস যদি ১ লক্ষ টাকা থেকে ১০ লক্ষ টাকার মাঝে থাকে তাহলে ৮০০ টাকা আবগারী শুল্ক দিতে হবে এবং ১০ লক্ষ টাকার ঊপর গেলে ২৫০০ টাকা হবে এবং এই আবগারী কর বা শুল্ক একবারই, হ্যাঁ “একবারই” এবং “একবারই” কাটা হবে…প্রতি বছর ডিসেম্বর ৩১ তারিখে বা জানুয়ারি ১ তারিখে।

 

হ্যা আপনার মত ফেসবুক নাগরিককে বলছি এই আবগারী কর বা শুল্ক একবারই কাটা হয়। এবার এফডিআর ও ডিপিএস এর কথা। এফডিআর ১/৩/৬/১২ মাস যে মেয়াদেই রাখেন ওই একই হিসাব প্রাপ্ত লাভের উপর TIN ধারী হলে ১০%, TIN ধারী না হলে ১৫%। আর আবগারী কর বা শুল্ক তাও ঐ একই হিসাব এফডিআর এ টাকার পরিমাণ , ১০০০০০ এর নিচে থাকে তাহলে কোন আবগারী শুল্ক দিতে হবে না, যদি ১ লক্ষ টাকা থেকে ১০ লক্ষ টাকার মাঝে থাকে তাহলে ৮০০ টাকা আবগারী শুল্ক দিতে হবে, এবং ১০ লক্ষ টাকার ঊপর গেলে ২৫০০ টাকা হবে।

৩/৬ মাসের এফডিআর এর হিসাবে একটা ধরা আছে। এফডিআর যদি বছরের মাঝে শুরু হয়ে বছরের মাঝেই শেষ হয় তাহলে আবগারী কর বা শুল্ক একবার দিতে হবে। কিন্তু তা যদি এক বছর শুরু হয়ে পরের বছর শেষ হয় মানে অক্টবরে বা নভেম্বরে শুরু হয়ে পরের বছর জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারিতে শেষ হয় তাহলে দুইবার দিতে হবে…এক বছরের বেশি মেয়াদে এফডিআর করলে বছর প্রতি হিসাব হবে।

ডিপিএস এর বেলায় একই কথা যে মেয়াদেই রাখেন প্রাপ্ত লাভের উপর TIN ধারী হলে ১০%, TIN ধারী না হলে ১৫%। আর আবগারী কর বা শুল্ক বছর প্রতি বছর জমা হওয়া টাকার পরিমানের ঊপর ঐ একই ১লক্ষ টাকার উপরে থাকে তাহলে ৮০০ টাকা এবং ১০ লক্ষ টাকার ঊপর গেলে ২৫০ টাকা হবে।

অনেক প্রবাসি ভাই দেখি ব্যপক আতংক, টেনশনে আছেন। তাদের বলি আপানাদের পাঠান রেমিটেন্স এ কোন আবগারী কর বা শুল্ক নাই। যত খুশি টাকা পাঠান। হুন্ডি বা বিকাশে বা মোবাইল ব্যাংকিয়ে পা্ঠবেন না। ব্যাংকিং চ্যনেলে বা মানি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে পাঠান। বিদেশ থেকে টাকা পাঠানর জন্য যে ফি দিতে হয় তা সরকার ভর্তুকি দিবে এমন একটা প্রস্তাবনা এবারের বাজেটে দেয়া হয়েছে। পাশ হলেই কোন ফি দিতে হবে না দেশে টাকা পাঠাতে।

 

Save



Related posts

মন্তব্য করুন