যেকোনো দলকে হারাতে পারি – চন্দিকা হাতুরাসিংহে

 

তিনি যেন রক্ত-মাংসের মানুষ নন, রীতিমতো এক জাদুর কাঠি। যাঁর ছোঁয়ায় বিশ্ব ক্রিকেট মানচিত্রে নিত্য বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের অবস্থান।

২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল আর এবার চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালের মাঝখানে চন্দিকা হাতুরাসিংহের কোচিংয়ে আরো কত যে সাফল্য বাংলাদেশের! ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালের সামনে রেখে তাঁর কথা না শুনলেই নয়। বার্মিংহামে তাই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি এই শ্রীলঙ্কান। তাঁর বক্তব্যের উল্লেখযোগ্য অংশ এখানে। ‘যেকোনো দলকে হারাতে পারি - চন্দিকা হাতুরাসিংহে

প্রশ্ন : ২০১৫ বিশ্বকাপে আপনার দল গিয়েছিল কোয়ার্টার ফাইনালে। এবার আরেকটি বিশ্ব আসরে এগোল আরো এক ধাপ। সেমিফাইনাল। এ মুহূর্তে দলের আবেগ-অনুভূতি জানতে চাচ্ছি।

চন্দিকা হাতুরাসিংহে : ছেলেরা খুবই ফুরফুরে মেজাজে আছে। ওরা অবশ্যই এ ম্যাচটি খেলার জন্য মুখিয়ে আছে। যেভাবে খেলে আমরা সেমিফাইনালে এসেছি, তাতে আমরা খুব সন্তুষ্ট। আমরা বেশ আত্মবিশ্বাসীও। তবে এ ম্যাচটি আমরা আর দশটা ম্যাচের মতো ধরেই খেলতে চাচ্ছি। তাই বিশেষ কোনো প্রস্তুতির ব্যাপারও নেই।

প্রশ্ন : বাংলাদেশ দলের এই পর্যায়ে উঠে আসার পেছনে কোন মুহূর্তটিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলবেন?

হাতুরাসিংহে : দেখুন এক লাফে উন্নতি হয়নি আমাদের। ক্রমান্বয়ে এগিয়েছি আমরা। গত কয়েক বছরের পারফরম্যান্স আপনাকে সে কথাই বলবে। তবে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়াটা অবশ্যই বিশাল টার্নিং পয়েন্ট ছিল। এর পরই আমরা দেশের মাটিতে হওয়া সিরিজগুলোতে ভালো করার লক্ষ্য নির্ধারণ করি। যে লক্ষ্যে আমরা পৌঁছেছিও। আমাদের পরের লক্ষ্য ছিল দেশের বাইরে টেস্ট ও ওয়ানডেতে ভালো করা। সেই লক্ষ্য নির্ধারণের ফলই হলো এখানে সেমিফাইনালে ওঠা।

প্রশ্ন : একেই ইংল্যান্ডের মতো কন্ডিশনে খেলা। তার ওপর নিউজিল্যান্ড ম্যাচে ৩৩ রানে ৪ উইকেট হারানোর পরও জয়। জেতার বিশ্বাসটা এসেছিল কোত্থেকে?

হাতুরাসিংহে : আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটি তো ছিল সেখানেই। আমরা জানতাম যে স্কিলের দিক থেকে আমরা ‘গুড এনাফ’ দল। দরকার ছিল তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার মিশেলে একটা সঠিক কম্বিনেশন দাঁড় করানো। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল দেশের বাইরে ভালো খেলা। বড় বড় দলের বিপক্ষে যদি দেশের বাইরে না-ই খেলেন, তাহলে আপনি জানবেনই না যে দল হিসেবে কোথায় আছেন। তাই যখনই যে দলের বিপক্ষে খেলেছি, চেষ্টা করেছি তাঁদের সঙ্গে দূরত্বটা কমিয়ে আনার।

প্রশ্ন : সেমিফাইনাল ভাবনার পুরোভাগে আছে কোন ব্যাপারটি?

হাতুরাসিংহে : বড় দলের বিপক্ষে খেলতে নামলে নিজেদের সামর্থ্য যথাসম্ভব মেলে ধরারই লক্ষ্য থাকে আমাদের। আমরা এখনো উন্নতির পর্যায়ে থাকা একটি দল। তাই আমরা এ জায়গাতে খুব মনোযোগী।

প্রশ্ন : নিজেদের ফাস্ট বোলিং লাইন-আপ নিয়ে কী বলবেন? কখনো কি মনে হয়েছে যে এটা ভারতের চেয়েও ভালো?

হাতুরাসিংহে : অন্যদের চেয়ে ভালো কি না, সেটা বলছি না। তবে এটা বলতে পারি যে আমাদের ফাস্ট বোলাররা বৈচিত্র্যময়। এঁদের একেকজনের দক্ষতার জায়গাটা একেক রকম।

প্রশ্ন : ভারতকে হারানোর জন্য কোনটিকে আদর্শ মনে হচ্ছে। ভয়ডরহীন আক্রমণাত্মক ক্রিকেট নাকি সহজ-স্বাভাবিক ক্রিকেট?

হাতুরাসিংহে : দেখুন, টুর্নামেন্টের শুরুতেও ভারত অন্যতম ফেভারিট ছিল। আমার কাছে এখনো ওরা ফেভারিট। তবে আগেও একটা কথা বারবার বলেছি যে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলে আমরা যেকোনো দলকেই হারাতে সক্ষম।

প্রশ্ন : বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালের পর চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনাল। কোচ হিসেবে কতটা ভালোলাগার বিষয় এটা?

হাতুরাসিংহে : হ্যাঁ, চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে আমরা এই প্রথম খেলতে চলেছি। আমি বলব এটা দলের সবার জন্যই বিরাট এক সুযোগ। এমনকি কোচিং স্টাফের সদস্যদের জন্যও। এটা মাঠে নেমে নিজেদের মেলে ধরার বিরল এক সুযোগ।

প্রশ্ন : ৩ নম্বর পজিশন নিয়ে নিশ্চয়ই আপনি উদ্বিগ্ন। আয়ারল্যান্ডের ত্রিদেশীয় সিরিজেও সাব্বিরকে খেলানোর পর এখানে প্রথমে খেলালেন ইমরুলকে। পরে আবার সাব্বিরে ফিরলেন। এসবের পেছনে কী ভাবনা ছিল আসলে?

হাতুরাসিংহে : আমাকে স্বীকার করতেই হবে যে আমরা ওয়ানডেতে আমাদের মূল পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছিলাম। এখন আমরা আবার সেই শুরুর চিন্তাতেই ফিরে গেছি। ৩ নম্বরে আমরা সাব্বিরের ওপরই আস্থা রাখছি। ওই জায়গায় আপনার কাজটা করে দেওয়ার সামর্থ্য ওর আছে, এটা আমরা বিশ্বাসও করি। সীমিত সুযোগে ও সেটা করেও দেখিয়েছে। সুতরাং ওর ওপর আস্থা রাখতে হবে আমাদের।

প্রশ্ন : এত বড় ম্যাচ! ছেলেদের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করবেন কিভাবে?

হাতুরাসিংহে : আগেও বলেছি, আমরা এটিকে আর দশটা ম্যাচের মতো ধরে নিয়েই খেলছি। আশা করব ছেলেরা এই সুযোগটা দুই হাত ভরে নেবে। আমি নিশ্চিত যে খুব বেশি লোক আমাদের সেমিফাইনাল সম্ভাবনা দেখেনি। এখন বিশ্বকে দেখানোর সুযোগ যে আমরা কী করতে পারি এবং আমরা কত দূর এসেছি। আশা করব ছেলেরা যেন এই ম্যাচটি খুব উপভোগ করে।

Save



Related posts

মন্তব্য করুন