সর্বশেষ সংবাদ

ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসুন নবাবগঞ্জের কলাকোপা, বান্দুরা ও দোহারের মৈনট ঘাট

No automatic alt text available.

নবাবগঞ্জের প্রথম নবনির্মিত কলাকোপা আদনান পার্ক:

17951451_1092908394149287_456020425654624903_n

কলাকোপা

মন্দির : ছোট দুটি স্তম্ভ আর পাথর খোদাই করে তৈরি একটি কৃষ্ণ মূর্তির মন্দির এর সম্বল। বসার জায়গা কালের পরিক্রমাই একটু দেবে গেছে। মূর্তির মাথাটা ভেঙে গেছে।

কোকিল প্যারি জমিদার বাড়ি : অসাধারণ নির্মাণ শৈলি। এখন ৮টি শিক্ষক পরিবারের বাসস্থান। সামনেই কোকিল প্যারি স্কুলের শিক্ষকরা সপরিবারে এখানে থাকেন। বাইরে থেকে দেখা ছাড়া ভেতরে যাওয়ার অবকাশ নেই।

ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসুন কলাকোপা, বান্দুরা ও মৈনট ঘাট

উকিল বাড়ি : এ বাড়িটি হাশেম উকিলের বাড়ি নামে বেশি পরিচিত। নিচতলাতে ২টি ভাড়াটে এবং দোতলাতে উকিল সাহেব নিজেই থাকেন। ওখানে একটি ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টারও আছে। ট্রেনিং সেন্টারের শিক্ষক সাহেব আমদের পুরো জায়গা ঘুড়িয়ে দেখিয়েছেন। সকালের নাস্তা আমরা ওখানকার পুকুর পাড়ে করেছিলাম।

জজ বাড়ি : জজ সাহেবরা ৯ ভাই-বোন। তাদের মা রত্নগর্ভা হিসেবে স্বর্ণ পুরস্কার প্রাপ্ত। বাড়ির এক কর্ণারে ৯টি হরিণের বাস। চমৎকার বাধাই করা পুকুর পাড়। অসাধারণ নির্মাণ শৈলি। কিন্তু একটু সংরক্ষিত, জজ সাহেবরা থাকলে ভেতরে ঢুকতে দেওয় হয় না। সৌভাগ্যক্রমে আমরা ঢুকতে পেরেছিলাম। ভেতরে ঢুকে দেখার খুব ইচ্ছে ছিল, কিন্তু জজ সাহেবরা থাকাতে সে ইচ্ছায় গুড়েবালি।

খেলারাম দাতার বাড়ি বা আন্ধার কোঠা : স্থাপনাটা একটু অন্যরকম। খেলারাম দাতার আসল নাম খেলারাম খাঁ। অনেকে আঁন্ধার কোঠা নামেও চেনেন। বছর খানেক আগে এটা প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর মেরামত করেছেন একজন তত্ত্বাবধায়কও নিয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু তাকে খুঁজে বের করাটা একটু কঠিন। আমদের বাইরে থেকে দেখে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। সামনে বিশাল খেলারাম দাতার পুকুর। যারা যেতে চান তারা তত্ত্বাবধায়কে ব্রিজের পাশ থেকে ধরে নিয়ে যাবেন। উনি ব্রিজের পাশেই ভাড়া থাকেন।

বান্দুরা

হাসনাবাদ গির্জা : ১৭৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত গির্জা। রোববার ছাড়া ভেতরে ঢোকা যাবে না। গির্জার পাশেই বিশাল সেমিট্রি। গির্জার সামনে বেশ কটি ভাস্কর্য তারও সামনে বিশাল মাঠ। হাসনাবাদ গির্জার পাশেই ছায়া ঘেরা বেশ কয়েকটি বাড়ি। আমরা এখানে বসে গাছের ছায়াতে দুপুরের খাবার খেয়েছি।

ভাঙা মসজিদ : অনেকেই গায়েবী মসজিদও বলেন। স্থানীয়রা বলেন, এ মসজিদের সামনের অংশ হঠাৎ একরাতে গায়েবী ভাবে হয়েছে। মসজিদের নতুন একটা মিনার করা হয়েছে ২৪ লাখ টাকা খরচ করে। মানতের ছড়াছড়ি। এখানে ছেলেদের থেকে মেয়েদের আনাগোনা বেশি।

মৈনট ঘাট :

মাঠের পর মাঠ বাদাম ক্ষেত। নদির ওপাড়েই ফরিদপুর। ঘাটের পাশেই প্রতিদিন সকালে মাছের বিশাল বাজার বসে। এখন পাড় ভাঙছে। বেশি সুন্দর দেখাই ভর-বর্ষাতে; আশপাশের বাদাম ক্ষেত যখন পানিতে ডুবে যায়। তখন নাকি সত্যি সমুদ্রের মতো লাগে। ঘাটে যাওয়ার সময় রিকশা সদৃশ নছিমনে যাওয়া যায়। নছিমনে উঠলে রাস্তার ভগ্নদশার কারণে রোলার কোস্টারে ওঠার অনুভূতি হয়।

একদিনে ঘোরাঘুরির জন্য দারুণ জায়গা। প্রচুর হিজল আর কাঠ লিচু গাছ। চারদিকে গ্রামের সেই চির পরিচিত গন্ধ। আহ হা……। যারা তালের রস খাননি তারা এখানে সে সুযোগটা অতি সহজে নিতে পারবেন- দারুণ স্বাদ।  আমরা গাছ থেকে পাড়িয়ে একদম টাটকা খেয়েছি।

যেভাবে যাবেন : কলাকোপা আর বান্দুরা আলাদা স্থান তবে কাছাকাছি। গুলিস্তানে বাস পাবেন কলাকোপা ও বান্দুরার আবার সোয়ারীঘাট দিয়ে বুড়িগঙ্গা পার হয়ে জিনজিরা থেকেও বাস পাবেন বাসগুলো গুলিস্তান গোলাপ শাহ্ মাজার থেকে ছাড়ে যা একটু সেমি লোকাল তবে খুব বেশি বিরক্তিকর না। সঙ্গে নারী না থাকলে সমস্যা হবে না। ব্যক্তিগত গাড়ি হলে অভিজ্ঞ ড্রাইভার লাগবে। সরু এ রাস্তায় টাটা মিনিবাসগুলো খুব বেপরোয়া চালায়।

এ ছাড়া গুলিস্তান থেকে দু’ঘণ্টায় কলাকোপা গিয়ে জজবাড়ি বা আনসার ক্যাম্পে নেমে আপনার আর কিছু করতে হবে না। রাস্তা ধরে এগিয়ে গেলে বা কাউকে জিজ্ঞাসা করলে দেখিয়ে দেবে ইছামতি নদী, পুরোনো জমিদার বাড়িগুলো এবং আনসার ক্যাম্প। আনসার ক্যাম্পের অনুমতি (আইডি কার্ড থাকলে ভালো) নিয়ে ওদের পুরোনো বাড়িগুলো দেখতে এবং নদীর ঘাটলায় গোসল করতে পারবেন। এলাকার লোকজন খুবই সজ্জন। সন্ধ্যার আগে বাস না ধরলে সমস্যা হতে পারে।

সতর্কতা : দল ভারি না হলে মেয়েদের নিয়ে পরিত্যাক্ত ভবনের দিকে যাবেন না। দুপুরে খাবারের জন্য বাস যে বাজারে নামিয়ে দেবে সেখানে ভাতের হোটেল পাবেন। ভালো ক্যামেরা নিয়ে গেলে তিন ঘণ্টার বেশি লাগবে কলাকোপা ঘুরে শেষ করতে।

ঈদে বারাতে আসুন মৈনট মৈনট ঘাটে : এক টুকরো কক্সবাজার

 

Save



Related posts

মন্তব্য করুন