সর্বশেষ সংবাদ

নবাবগঞ্জে সালিশে জুতা পেটার লজ্জায় আত্মহত্যা মামলায় এজাহারে মূল আসামীদের নাম নেই

আলীনূর ইসলাম মিশু:

নবাবগঞ্জে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ এনে শালিসে জুতা পেটার লজ্জায় বিষপানে নুরুল হক খান নামের এক যুবকের আত্মহত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। গত শনিবার বিকালে উপজেলার আগলা ইউনিয়নের বেনুখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নবাবগঞ্জে সালিশে জুতা পেটার লজ্জায় আত্মহত্যা মামলায় এজাহারে মূল আসামীদের নাম নেই

নিহত নুরুল হক খান ঐ গ্রামের কুব্বাত খানের ছেলে। ঘটনার পরের দিন রোববার সকালে নিহতের মা হাসিনা বেগম বাদী হয়ে ১৩ জনের নামসহ অজ্ঞাত ৭/৮ জনের নামে থানায় মামলা করেন। তবে স্থানীয় এক আওয়ামীলীগ নেতার হস্তক্ষেপে মূল কয়েকজন আসামীকে এজাহার থেকে বাদ দেয়ার অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। প্রত্যক্ষদর্শী আছিয়া বেগম গ্রাম্য সালিশের বিবরণে জানান, শনিবার সকাল ১০টার দিকে বেনুখালী ইসা খানের বাড়ির উঠানে গ্রাম্য শালিস বসানো হয়। সালিশের আগে রফিকুল ইসলাম রিজালের নির্দেশে নুরুল হক খানকে বাড়ি থেকে ধরে আনা হয়। ইউপি সদস্য রমজান খান শালিসে সভাপতিত্ব করেন। সালিশে জুড়ি বোর্ডে ছিলেন নুরুল হক খানের চাচা মোশারফ হোসেন খান, রফিকুল ইসলাম রিজাল, নারী ইউপি সদস্য ফরিদা পারভিন, আরজ আলী, শেখ কামরুল হোসেন, বেলায়েত হোসেন, শেখ জুম্মন মিয়া, মিন্টু শেখ, মবিন, শেখ মঞ্জুসহ ১২/১৩জন। সালিশে জুড়ি বোর্ড সদস্যরা প্রথমে ১শ’ জুতা পেটা ও ২ বছরের জন্য গ্রাম ছাড়ার রায় ধার্য্য করে। পরে কমিয়ে ১০টি জুতা পেটা ও ১বছরের জন্য গ্রাম ছাড়ার রায় ধায্য করেন জুড়ি বোর্ড। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানান, শালিসে উপস্থিত নিহেতর চাচা মোশারফ খান সহ কয়েকজনকে রায় কার্যকরের দায়িত্ব দেয়া হয় শেষে ঝুনু বেগমের ভাই শেখ জুম্মন মিয়া এ রায় কার্যকর করেন। এ ঘটনার পর কোন এক সময়ে লজ্জায় অপমানে নুরুল বিষপান করেন। পরে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। রাতে পুলিশ লাশের ময়নাতদন্তের জন্য থানায় নিয়ে আসে। সকালে স্থানীয় এক আওয়ামীলীগ নেতার প্ররোচনায় মামলার মূল কয়েকজন আসামীকে এজাহার থেকে বাদ দেয়া হয়। গত রোববার রাতে পুলিশ ঐ ইউনিয়নের নারী ইউপি সদস্য ও মো. লিপ্টনের স্ত্রী ফরিদা পারভিন এবং মৃত শেখ আশক আলীর ছেলে বজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এলাকাবাসী ওমান ও আফরোজা জানান, স্থানীয় এক আওয়ামীলীগ নেতার হস্তক্ষেপে মামলাকে প্রভাবিত করা হয়েছে। গ্রাম্য সালিশের জুড়ি বোর্ডে থাকা নিহতের চাচা মোশারফ হোসেন খান, রফিকুল ইসলাম রিজাল, আরজ আলী, শেখ মঞ্জু, শেখ মিন্টুর নাম অজ্ঞাত কারণে এজাহারে নেই। মামলার ৯নং আসামী সাজ্জাদ আলম খান বৃটেন অভিযোগ করেন, আমি কোন জুড়ি বোর্ডে ছিলাম না কিংবা বিচারের কোন অভিমতও দেইনি। তবুও আমি ও আমার মা ফিরোজা বেগমকে আসামী করা হয়েছে। এতে আমরা আর্থিক ও মানসিকভারে হয়রানির শিকার হচ্ছি। নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক আজহারুল ইসলাম বলেন, ১৩জনের নামসহ অজ্ঞাত আরো ৭/৮ জনের নামে থানায় মামলা হয়েছে। তবে তদন্ত সাপেক্ষে আরো কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Save



Related posts

মন্তব্য করুন