সর্বশেষ সংবাদ

নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অবহেলায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ

 

আলীনূর ইসলাম মিশু

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অবহেলায় বিশ্বনাথ কর্মকার (৪৫) নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়। বিশ্বনাথ উপজেলার আগলা ইউনিয়নের খানহাটি গ্রামের ধীরেন কর্মকারের ছেলে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অবহেলায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ

স্বজনরা অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার সকাল ৮টায় পেটের ব্যাথা নিয়ে বিশ্বনাথকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয় বলে জানা যায়। নিহত সে আগলা বাজারের একটি স্বর্ণের দোকানের অলংকার গড়ার কাজ করতো। নিহতের স্ত্রী দিপালী কর্মকার অভিযোগ করেন, গত দু’দিন যাবত টয়লেটে যায়নি বিশ্বনাথ। মঙ্গলবার সকালে পেটে প্রচন্ড ব্যাথা হলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাকে পুরুষ ওয়ার্ডের একটি বিছানায় রাখা হয়। এরপর বেলা ১১টায় কর্মরত চিকিৎসক মো. কামরুজ্জামান রোগীকে দেখেন। এসময় তার শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। চিকিৎসককে সব খুলে বললেও পায়খানা করার কোন ওষুধও দেননি তিনি। এসময় রোগীর ব্লাড প্রেসারও পরিমাপ করেননি চিকিৎসক। আবার তার কাছে টাকা নেই বলার পরও ওয়ার্ডের বয় সোহেল ও সিস্টার বাসন্তি জোর করে ২শ’ টাকা নিয়েছে। বিকালের দিকে তার অস্থিরতা বাড়তে থাকে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়। দিপালী কর্মকার জানায়, ১০ বছরের এক ছেলেকে নিয়ে তার সংসার। স্বামী আর নিজের সেলাই কাজের উপার্যনের টাকায় কোন রকমে সংসার চলতো। চিকিৎসকের অবহেলায় তার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে বলে দিপালী কর্মকার অভিযোগ করেন। বিশ্বনাথ কর্মকারের বড় ভাই গণেশ কর্মকার বলেন, সারা হাসপাতালে একজন চিকিৎসক কিভাবে চিকিৎসা দিতে পারে। বিশ্বনাথকে একবারই চিকিৎসা দিয়েছিল তারা। চিকিৎসকের অবহেলায় তার ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। তিনি তার ভাইয়ের মৃত্যুর জন্য বিচার চান। এবিষয়ে চিকিৎসক মো. কামরুজ্জামান জানান, রোগীর প্রতি কোন অবহেলা করা হয়নি। স্ট্রোক করে রোগীর মৃত্যু হয়েছে এটা আমি নিশ্চিত। নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শহিদুল ইসলাম জানান, অভিযোগ প্রমানিত হলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।



Related posts

মন্তব্য করুন