দোহারে ভুমিহীন পরিবারের ৪২ বছরের বসতভিটা লীজের নামে দখলের চেষ্টা

 

আবুল হাশেম ফকির:

দোহার উপজেলায় মাহমুদপুর ইউনিয়নের চর কুসুমহাটি গ্রামের মাহমুদপুর পুলিশ ফাড়িঁ সংলগ্ন প্রায় ২৭ শতাংশ জমি যা ভুমিহীনদের জন্য বরাদ্ধকৃত সম্পত্তি দুই ইউপি সদস্য সামাদ মৃধা,মনিরা বেগম ও ইউএনও’র সহকারি নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে দখলের অভিযোগ করেছে ভুমিহীনরা।

দোহারে ভুমিহীন পরিবারের ৪২ বছরের বসতভিটা লীজের নামে দখলের চেষ্টা

এ বিষয়ে দোহার থানায় অভিযোগ করেও দখল চলাকালীন সময়ে কোন সহযোগীতা পাননি বলে জানান ভুমিহীনদের পক্ষে অভিযোগকারী মো.ফরহাদ মিয়া। ভুমিহীনদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের প্রায় শতাধিক একর সম্পত্তি নদী ভাঙ্গনের ফলে সম্পত্তিগুলি উপজেলা ভুমি অধিদপ্তরের আওতায় রয়েছে।ফলে কুসুমহাটি মৌজার আর-এস ৫৯৭ নং দাগে ২৭ শতাংশ জমি ভুমিহীনদের নামে বরাদ্ধ দেন উপজেলা প্রশাসন। কৌশলে উক্ত সম্পত্তি দোহারের ইউএনও’র সহকারি নজরুল ইসলাম তার নিকট এক আত্বীয়ের নামে বরাদ্ধ নেন। গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার উক্ত বরাদ্ধকৃত সম্পত্তিতে মাহমুদপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য সামাদ মৃধা ও দোহারের ইউএনও’র সহকারি নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রায় শতাধিক লোকজন শাবল,কুড়াল,বড় হ্যামার,কুদাল নিয়ে দখল করে সীমানা প্রাচীর নির্মান করছিলেন।বিষয়টি স্থানীয় সংবাদ কর্মিদের নজরে পড়লে ইউপি সদস্য সামাদ মেম্বারের নেতৃত্বে নির্মান করা সীমানা প্রাচীরের একাংশ শুক্রবার বেলা ১০টার দিকে লোকজন নিয়ে ভেঙ্গে ফেলে।এ সময়ে সংবাদ কর্মিদের দেখতে পেয়ে জমিতে বসত করা নদী ভাঙ্গনের শিকার বাদশা মেম্বারের পরিবাররা সহ প্রতিবেশী ও আশে পাশের শতাধিক পরিবার 24khobor.com কে প্রতিবাদের ভাষায় জানান,বৃহস্পতিবার সকালে দোহারের ইউএনও’র সহকারি নজরুল তাদেরকে বলে আপনারা যারা এখানে টাকা-পয়সা দিয়ে ঘর-বাড়ি তুলেছেন অতি শীঘ্রই তা সরিয়ে নিন।টাকা-পয়সা যা খরচ করেছেন তার দ্বিগুন দেওয়া হবে। ইউএনও’র সহকারি নজরুলের মুখে একথা শুনে তারা দোহার থানায় অভিযোগ করলে কর্তব্যরত এ এস আই নুরুল আমীন মাহমুদপুর পুলিশ ফাড়িঁ ইনচার্জ মো.আরব আলীকে অবহিত করতে বলেন অভিযোগকারী ফরহাদকে। এ বিষয়ে মাহমুদপুর পুলিশ ফাড়িঁ ইনচার্জ মো.আরব আলী জানান,উভয় পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।রোববার সকালে পুলিশ ফাড়িঁ এলাকায় উভয়পক্ষকে নিয়ে বসা হবে। এ বিষয়ে দোহারের ইউএনও’র সহকারি নজরুল ইসলাম জানান,বিষয়টিতে তিনি কিছুই জানেন না এবং দুই পক্ষের কাউকে তিনি চিনেন না। এ বিষয়ে মাহামুদপুর ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সামাদ মৃধার সাথে তার মোবাইল ফোনে ০১৭১২০৬০৯৫৪ নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগ করলে বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে মাহামুদপুর ১/২/৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত ইউপি সদস্য মনিরা বেগম 24khobor.com. কে জানান,আমি দোহার থানা মহিলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সংরক্ষিত ইউপি সদস্য।আমার জানা মতে এই এলাকার সম্পত্তি দখলস্বত্ত ও ষ্টাম্পে বিক্রি হয়ে থাকে। এ বিষয়ে দোহার উপজেলা সহকারী(ভুমি)কমিশনার ইমরুল হাসান কায়েস জানান,বিষয়টি আমার জানা ছিল না।সরেজমিনে গিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি। এ বিষয়ে দোহারের ইউএনও কে এম আল-আমিন জানান,বিষয়টিতে এখন জানতে পারলাম।রোববার অভিযুক্ত বিষয়ে তদন্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। উক্ত এলাকার ভুমিহীন অসহায় গরিব দুঃখীদের মাঝে চাপা উত্তেজনা ও ভয়ভীতি বিরাজ করছে।

 



Related posts

মন্তব্য করুন