সর্বশেষ সংবাদ

নবাবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মাধবী রাজবংশী নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার।

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় মাধবী রাজবংশী (২৩) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছেন পুলিশ। শুক্রবার রাতে নবাবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। নিহত মাধবী উপজেলার নয়নশ্রী গ্রামের লিপন রাজবংশীর স্ত্রী ও একই উপজেলার যন্ত্রাইল গ্রামের সুবাস রাজবংশীর মেয়ে বলে। নিহতের শ্বশুর বাড়ীর লোকজন এই ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে প্রচার করলেও মাধবীর বোনের দাবি, তার বাবার বাড়ির লোকজন যৌতুক দিতে না পারায় বোন আত্মহত্যা করেছে।

নিহত মাধবীর শ্বশুর অখিল রাজবংশী বলেন, প্রায় ৫ বছর আগে লিপন রাজবংশীর সাথে মাধবীর বিয়ে হয়। শুক্রবার বাড়ীতে তার ছোট ছেলে লিটনের আর্শিবাদের অনুষ্ঠান ছিলো। সবাই অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। পরিবারের লোকজন রাত আনুমানিক ৮টার দিকে মাধবীকে তার বসত ঘরের আড়ার সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি দাবি করেন, ঘরের আড়ায় কাপড় পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে মাধবী। তবে তাদের কোনো পারিবারিক অশান্তি ছিলো না বলে দাবি করেন নিহতের শ্বশুর। তবে নিহত মাধবীর বোন নয়ন রাজবংশী ও ভাগিনা রনি রাজবংশী এটাকে আত্মহত্যা বলতে নারাজ। তারা দাবি করেন, বিয়ের পর থেকেই মাধবীর স্বামী, শাশুড়ী, ননদ ও দেবর পণের জন্য মাধবীকে নির্যাতন করতেন। মাধবীর দরিদ্র পিতার পক্ষে সব সময় টাকা দেওয়া সম্ভব হতো না। তাই তুচ্ছ ব্যাপার নিয়ে শ্বশুর বাড়ীর লোকজন মাধবীকে মারধর করত। কিছুদিন আগেও মাধবীকে চাপ দিয়ে তার বাবার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা আদায় করেছেন লিপন ও তার পরিবার। এর আগেও একাধিকবার বিভিন্ন অংকের পণ নিয়েছেন তারা। মাধবীকে তিলে তিলে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। এই সময় মাধবীর হত্যায় যারা পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন তারা। নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক লুৎফর রহমান জানান, পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। নিহতের গলার চারপাশে কালো দাগ রয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর রহস্য জানা যাবে।

Save

Save



Related posts

মন্তব্য করুন