সর্বশেষ সংবাদ

নবাবগঞ্জে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি না করে গাইড বই থেকে ফটোকপি করে প্রশ্ন হিসেবে ব্যবহার করছে শিক্ষকরা

 

নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় এসএসসি টেস্ট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি না করে গাইড বই থেকে সরাসরি ফটোকপি করে প্রশ্ন হিসেবে পরীক্ষা নিচ্ছেন প্রধান শিক্ষক। উপজেলার অাগলা চৌকিঘাটা জনমঙ্গল উচ্চ বিদ্যালয়ে ঘটনাটি ঘটেছে।

নবাবগঞ্জে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি না করে গাইড বই থেকে ফটোকপি করে প্রশ্ন হিসেবে ব্যবহার করছে শিক্ষকরা

অনুসন্ধানে দেখা যায়, শনিবার পরীক্ষার্থীদের ইংরেজি প্রথম পত্র পরীক্ষায় কোন কমন না পড়ায় ছাত্রছাত্রীরা কান্নাকাটি করছে। পরে ছাত্রছাত্রীদের প্রশ্নপত্র দেখতে পেলে দেখা যায় প্রশ্নটি সরাসরি গাইট বই থেকে বা বিগত বছরের কোন প্রশ্নপত্র থেকে নকল করে ফটোকপি করে পরীক্ষা নিয়েছেন শিক্ষকরা। ছাত্রছাত্রীরা বলেন, অামরা পরীক্ষা দেওয়ার পর হল থেকে বের হয়ে দেখি অামাদের প্রশ্নের সাথে পার্শ্ববর্তী স্কুলের প্রশ্নের সাথে মিলছে না । পরে অামরা জানতে পারি এটা গাইট বই দেখে ফটোকপি করে প্রশ্ন তৈরি করা হয়েছে। এতে অামাদের পরীক্ষা অনেকটাই খারাপ হয়েছে। এবং যে সিলেবাস অনুযায়ী পড়ে পড়াশোনা করে এসেছি ঐগুলোর মধ্যে কিছুই মিলছে না। এতে অামরা ইংরেজি প্রথম পত্র বিষয়ে পাস করা নিয়ে খুব অাতঙ্কে অাছি। এ বিষয়ে পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকরা বলেন, যদি স্যারদের মেধার মধ্যমে প্রশ্নপত্র না তৈরি করে এভাবে সরাসরি গাইড বই বা বিগত বছরের কোন প্রশ্নপত্র ফটোকপি করে ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষা নেওয়া হয় তাহলে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ কি হবে। তাহলে তো শিক্ষকদের কোন মর্যাদা রইলো না। এবং এ বিষয়ে যেন শিক্ষা অফিসার একটু নজর দেন। এছাড়া গত বছরের এসএস.সি পাশকৃত ছাত্রছাত্রীদের অনেকের অভিযোগ, অাগলা চৌকিঘাটা জনমঙ্গল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অা.ক.ম তিনি ফরম পূরন বাবদ সরকারী নিয়মের বাহিরে দ্বিগুণ টাকা হাতিয়ে নেয়। এবং কোন বিষয়ে টেস্টে ফেল করলে ফরম পূরন বাবদ টাকার সাথে সব মিলিয়ে ৯-১০ হাজার টাকা করে নেয়। এ বিষয় নিয়ে অাগলা চৌকিঘাটা জনমঙ্গল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সাথে প্রথমে কথা বলতে চাইলে তিনি কোন কথা বলতে চায় না। পরে ৫ মিনিট বসতে বলে। কিছুক্ষণ পর বিদ্যালয় কমিটির সদস্যদের অাসতে বললে তারা অাসার পর তিনি কথা বলেন। তিনি জানান, নবাবগঞ্জ উপজেলা শিক্ষক সমিতির প্রশ্নপত্রের প্যাক ছেরা অাসার কারনে অামরা ঐ প্রশ্ন পত্র বাতিল করে পরীক্ষা নিয়েছি। এবং পরবর্তী পরীক্ষা গুলো সমিতির প্রশ্নের অালোক হবে না। তবে কেন গাইট বই সরাসরি ফটোকপি করে প্রশ্নপত্র তৈরি করে পরীক্ষা নেওয়া হলো, প্রশ্নের জবাবে এক পর্যায়ে তিনি ঘাপরিয়ে যায় এবং উল্টাপাল্টা উওর দিতে থাকেন । তিনি বলেন, ইংরেজী প্রশ্নটা অামি এখনো দেখি নি এটা কি গাইট বই থেকে কপি করা না বিগত কোন বছরের প্রশ্নপত্র থেকে কপি করা। তিনি অারো বলেন স্কুলে প্রশ্ন পত্র তৈরির জন্য একটি কমিটি রয়েছে সেই কমিটিরা এটা করেছে। এবং বৃহস্পতিবার স্কুল কমিটির সভাপতি ও অন্যান্য সদস্যরা মিলে অালোচনা করার পর সমিতির প্রশ্নপত্র বাতিল করে নতুন প্রশ্নপত্র তৈরির এই সিদ্বান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখিত যে বৃহস্পতিবার সমিতির প্রশ্নপত্র স্কুলে এসেছে। প্রশ্নপত্র অাসার পর প্রশ্নের প্যাক ছেরা থাকার কারনে স্কুল কমিটি মিলে নতুন প্রশ্নপত্র করার জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। কিন্ত মাঝখানে রয়েছিলো ১ দিন এর ও বেশি সময় তবুও প্রশ্নপত্র কম্পোজ করে নি।

গাইড বই বা বিগত বছরের প্রশ্নপত্র নকল করে ফটোকপি করে নিয়েছে পরীক্ষা। অার এতে পাশ করা নিয়ে অাতঙ্কে ছাত্রছাত্রীরা। এ বিষয় নিয়ে অাগলা চৌকিঘাটা জনমঙ্গল উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মাসুদ খান মজলিশ বলেন, সমিতির প্রশ্নপত্র খুব সহজ হওয়ার কারনে স্কুল কমিটির সকল সদস্য এবং শিক্ষকরা অালোচনায় বসে সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্কুল থেকে প্রশ্নপত্র করেছি। কারন ছাত্রছাত্রীরা যেন বেশি পড়াশোনা করে। এবং প্রশ্নপত্র কঠিন হলে ছাত্রছাত্রীরা অাতংকে থাকবে। এতে পড়াশোনায় মনোযোগী হবে। উক্ত ঘটনা ও স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং স্কুল কমিটির সভাপতির বক্তব্যের সাথে কিছুই মিলছে না। প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য, সমিতির প্রশ্নপত্রের প্যাক ছেড়া অাসার কারনে অামরা এই প্রশ্নপত্র বাতিল করেছি। অার স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির বক্তব্য, সমিতির প্রশ্নপত্র খুব সহজ হওয়ার কারনে স্কুল কমিটির সকল সদস্য এবং শিক্ষকরা অালোচনায় বসে সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্কুল থেকে প্রশ্নপত্র করেছি। এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ফারুক অাহম্মেদ বলেন, সমিতির প্রশ্নপত্র কোন কারনে বাতিল করে স্কুল প্রধান শিক্ষক এর অাওতায় প্রশ্নপত্র করতে পারবে। অার যদি গাইড বই সরাসরি ফটোকপি করে পরীক্ষার জন্য প্রশ্নপত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে অাইনগত তাদের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



Related posts

মন্তব্য করুন