সর্বশেষ সংবাদ

মুন্সীগঞ্জে হ্যাপির হত্যা না আত্মহত্যা!!

মুন্সীগঞ্জ বাগবাড়ীর মাদবরবাড়ীর নববধুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নববধুর নাম হ্যাপী (১৮), স্বামী পারভেজ (২৭) পিতা মৃত্যু আব্দুল মতিন মাদবর। ৭ মাস পূর্বে কলেজ পড়ুয়া মেয়েকে বিবাহ দেয় সুতার মিলের শ্রমিক পারভেজের সাথে। মেয়ের বাবার বাড়ী সৈয়দপুর। মঙ্গলবার বাবার বাড়ী থেকে এসে রান্না করার জন্য তরিতরকারি তৈরী করা হাড়ি দেখা যাচ্ছে ঘরে। অপরদিকে হ্যাপীর শরীরের পুরোটা খাটের উপর হাটু দিয়ে ভর করে রাখা। ডান পাটা পাকার উপর দাঁড়িয়ে থাকার মতোই লাশটা। গলায় যে ওড়নাটা পেঁচানো রয়েছে তাও মাথার উপর। ছবি দেখে কোনভাবে আত্মহত্যা বলা যাবে না। বিষয়টি এখন হত্যা না আত্মহত্যা!

পুলিশ মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে হ্যাপীর স্বামীর বাড়ি বাগবাড়ী মাদবরবাড়ী দোতলা বিল্ডিংয়ের নিজ কক্ষ থেকে লাশ উদ্ধার করে। এ সময় আশ পাশে হাজারের উপরে নারী পুরুষ লাশ দেখার জন্য ভিড় জমায়। পরবর্তীতে মেয়ের বাবার বাড়ীর আত্মীয় স্বজন আসে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

পারভেজের খালাতো ভাই সেলিম যিনি পুলিশের উপস্থিতিতে দরজা লাথি দিয়ে ভাঙ্গার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে সাবল দিয়ে সে চাপ দিয়ে দরজা খুলে ফেলে। দরজা খুলে লাশ দেখার পরে মেয়ের আত্মীয় স্বজনের আহাজারিতে বাগবাড়ীর আকাশ বাতাশ ভারী হয়ে উঠে।

পারভেজের খালাত ভাই যিনি মোক্তারপুর ফাঁড়ির স্টাফ পরিচয়দানকারী সেলিম জানান, মেয়েটা আত্মহত্যাই করেছে। মেয়েটা আমার বাড়ী থেকে তরিতরকারি নিয়ে আসছে। তার কাছে তরিতরকারি কাটা রান্নার জন্য প্রস্তুত করা বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনারা ও পুলিশ দেখছেন না মেয়েটা আত্মহত্যা করেছে।

ছবিতে দেখা যায়, প্রথমত যেখানে হ্যাপী আত্মহত্যা করেছে সেখানে সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না বাঁধার জন্য কোন চেয়ার বা দাঁড়িয়ে বাধার জন্য কোন কিছু পাওয়া যায়নি। ফ্যানের সাথে কিভাবে সে ওড়না বাঁধলো এটা ভাবনার বিষয়। দ্বিতীয়ত: হ্যাপীর একটি পা খাটের উপর হাটুতে ভর করে আছে। তৃতীয়ত: হ্যাপীর ডান পা পাকার মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকার মতো। চতুর্থত: তরকারী রান্নার জন্য তৈরী করে রাখা হাড়িসহ তরকারি। পঞ্চমত গলায় ফঁস লাগানোর মতো ওড়ঁনা আটকানো না। ষষ্ঠত: তার জিহবা বের হয়নি। সপ্তমত: মলত্যাগের কোন ঘটনা পাওয়া যায়নি।

অপরদিকে স্থানীয় মেম্বার গোলাম মাওলা বলেন, হ্যাপীর আত্মহত্যার বিষয়ে আমি কোন মন্তব্য করবো না।

উপস্থিত হাজার হাজার নারী পুরুষের মাঝে বলতে শোনা গেছে মেয়েটি কলেজে পড়তে চেয়েছে কিন্তু স্বামী পারভেজ কলেজে পড়াতে নারাজ। তাদের আরো বলতে শোনা গেছে এভাবে আত্মহত্যা করতে পারে না। সামনের দরজা দিয়ে কোন কারিশমা করে হয়ে থাকতে পারে। এক কথায় বিষয়টি হত্যা না আত্ম হত্যা কোন হিসাব মিলাতে পারছেন না উপস্থিত এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী পরভেজকে আটক করা হয়েছে। বাকী ময়না তদন্ত শেষে বলা যাবে।

শীর্ষ সংবাদ



Related posts

মন্তব্য করুন