সর্বশেষ সংবাদ

সিরাজদিখানে একটি দিঘীর ভাঙন আতঙ্কে তিনশ’ সংখ্যালঘু পরিবার

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের মালখানগর ইউনিয়নের ফুরশাইল গ্রামের তিন শতাধিক সংখ্যালঘু পরিবারের আতঙ্ক একটি বিশাল আকারের দিঘী। দিঘীর পানির গভীরতা প্রচুর হওয়ায় প্রশ্বস্ত রাস্তা ভেঙ্গে চলে গেছে দিঘীর পেটে। ভেঙ্গে পড়ছে দিঘীটির পাড়ের গাছপালা। স্বচক্ষে দেখলে মনে হয় যেনো নদী ভাঙন চলছে। প্রায় ৩৫০ শতাংশের দিঘীটির চারদিক ঘিরে আছে হিন্দু জনগোষ্ঠীর কয়েকশ’ ঘরবাড়ি। পাড় ধসে পড়ায় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বাড়িঘরগুলো। চলাচলের রাস্তাও ধসে সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে বিদ্যুতের খুঁটিও। এতে বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা। শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে আসা-যাওয়ায়ও ব্যাঘাত ঘটছে। এই বিষয়ে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অবগত নয় জানিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

সিরাজদিখানে একটি দিঘীর ভাঙন আতঙ্কে তিনশ’ সংখ্যালঘু পরিবার

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার মালখানগর স্কুল অ্যান্ড কলেজের উত্তর পাশে হিন্দু বসতি এলাকা হিসেবে পরিচিত ফুরশাইল গ্রাম। ৩৫০ শতাংশের বৃশালাকার একটি দিঘী এই গ্রামের জনগোষ্ঠীর এখন আতঙ্কেও কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিঘীটির মালিক ফুরশাইল গ্রামের সাত্তার দেওয়ান ও তার অপর ৪ ভাই। হিন্দু বসতি এলাকায় এতো বড় একটি দিঘীর মালিক তারা কিভাবে হলেন-এই নিয়েও এলাকায় প্রশ্ন রয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে দিঘীর পানির সরিয়ে মাটি কেটে বিক্রি করার পর এর গভীরতা আরও বেড়ে গেছে। সাত্তার দেওয়ান দিঘীটি মাছ চাষের জন্য প্রতি বছর ৩ লাখ টাকায় ইজারা দিয়ে আসছেন। আর প্রায় দিনই মাছ ধরায় দিঘীর পাড় ভাঙছে বলে স্থানীয় বসবাসকারীদের অভিযোগ।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ধীরেণ ঘোষসহ ভুক্তভোগীরা বলেছেন, দিঘীটির চারদিকে প্রশ্বস্ত রাস্তা ছিলো। সেই রাস্তা ভেঙ্গে পড়ায় এখন হাটাই যায় না, রিক্সা বা যানবাহন চলাচলতো দূরের কথা। রাস্তা ভেঙ্গ বাড়ির ভেতরে চলে যাচ্ছে। শুষ্ক মৌসুম আসায় জল টান দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন আরও বাড়বে। এর প্রতিকার চান তারা।

এই দিঘীর মালিক দাবিদার সাত্তার দেওয়ান জানালেন, ৪ একর ২৫ শতাংশ (৪২৫ শতাংশ) ছিলো তার দিঘীটি। এই পরিমাণ জায়গার দিঘী তিনি বুঝে পেতে চান। আর শুষ্ক মৌসুম এলে দিঘীর চারপাশের যেখানে প্রয়োজন সেখানে কাজ করে দেবেন।

সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানবীর মোহাম্মদ আজিম দিঘীটি পরিদর্শন করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বসবাসকারী জনগণকে নিয়ে বসে সুন্দর একটি ব্যবস্থা করে দেবেন বলে জানিয়েছেন।

এদিকে, গত ২ রা নভেম্বর হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের পক্ষে স্থানীয় লায়ন ফজলুল হক মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদনে এর প্রতিকার চেয়ে বলেছেন, ফুরশাইল গ্রামের মঙ্গল দেওয়ান দেওয়ানের ছেলে সাত্তার দেওয়ান গং দিঘীটির পানি সরিয়ে খাড়াভাবে মাটি কেটে নেওয়ার কারণে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনসহ তারা বাড়িঘর নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। ইতোমধ্যে সবার বাড়ির মাটি ভেঙ্গে গাছপালা দিঘীতে পড়ে গেছে। সাত্তার দেওয়ান গংয়ের ভয়ে দিঘীর চারপাশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজন কোন প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না। দিঘীর চারপাশে ৫শ’ পরিবারের প্রায় ১ হাজার ৫শ’ মানুষের বসতভিটা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আরএস রেকর্ডে দিঘী বা পুকুরটি স্থানীয় জনসাধারণের কাজে ব্যবহার করার কথা থাকলেও সাত্তার দেওয়ান গং তাতে বাঁধা দিয়ে আসছে। সাত্তার দেওয়ানের বাবা মঙ্গল দেওয়ান বহুবছর আগে হিন্দুদের কাছ থেকে জোরপূর্বকভাবে জবরদখল করে ভুয়া দলিলপত্র সৃজন করে এসএ এবং আরএস সম্পাদক করে নেয় বলে আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।



Related posts

মন্তব্য করুন