সর্বশেষ সংবাদ

ডাকাত আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটালেন সিঙ্গাইরবাসী

মানিকগঞ্জ: ডাকাত আতঙ্কে সোমবার নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলাবাসী। স্থানীয় থানা পুলিশের পক্ষ থেকে রাতে ডাকাতি হতে পারে এমন সতর্ক বার্তা প্রচারের পর উপজেলার সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বাড়ানো হয় বিশেষ নিরাপত্তা টিম। এ ছাড়াও উপজেলার প্রতিটি ডাকাত প্রবন এলাকায় সাধারণ মানুষ লাঠিশোঠা ও টর্চলাইট নিয়ে রাতভর পাহারা দেন। তবে এদিন রাতে উপজেলার কোথাও কোনো ডাকাতির সংবাদ পাওয়া যায়নি।

ডাকাত আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটালেন সিঙ্গাইরবাসী

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত রোববার বিকালে উপজেলার গোবিন্দল মোল্লা পাড়া গ্রামের মুকলেছ উদ্দিনের বাড়িতে ১০-১৫ জন অপরিচিত ব্যক্তি আসে। তাঁদের চলাফেরা ও গতিবিধি সন্দেহ হলে বিষয়টি থানা পুলিশকে জানায় এলাকাবাসী। এমন খবর পেয়ে তৎপর হয়ে ওঠে পুলিশ। ওই বাড়িটিকে ঘিরে বাড়ানো হয় পুলিশের নজরধারি। রাত ৮টার দিকে থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) খন্দকার ইমাম সঙ্গীয় ফোর্স ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান মিঠুসহ এলাকাবাসীকে নিয়ে ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। এসময় সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে সেখান থেকে বাড়ির মালিক ও অজ্ঞাত ব্যক্তিরা কৌশলে পালিয়ে যায়। পরে ওই বাড়ি তল্লাশী করে একটি রামদা ৩টি কিরিচ, কলাপসিবল গেট ও তালা ভাঙ্গার যন্ত্রপাতিসহ বেশ কিছু দেশীয় তৈরি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। আটক করা হয় বাড়ির মালিকের স্ত্রী নাসিমা আক্তার ও তাঁর ১৫ বছর বয়সী ছেলে হৃদয়কে।

এরপর রাতে ডাকাত হানা দিতে পারে’ এমন সতর্ক বার্তা থানা পুলিশ উপজেলার সকল ইউপি চেয়ারম্যান ও সচেতন ব্যক্তিদের জানানো হয়। এমন নির্দেশনা পেয়ে ইউপি তাঁরা নিজ নিজ এলাকার মানুষকে সজাগ থাকার জন্য বলেন। জনসাধারণকে সচেতন করতে উপজেলার প্রতিটি পাড়া মহল্লার মসজিদের মাইকে প্রচার করা হয় বিশেষ সতর্ক বার্তা। এরই মধ্যে খবরটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। ডাকাতি প্রতিরোধে উপজেলার জামশা, চান্দহর, জামির্ত্তা ধল্লা, তালেবপুর, জয়মন্টপ ইউনিয়নসহ উপজেলার ডাকাত প্রবন এলাকায় সাধারণ মানুষ হাতে টর্চলাইট ও লাঠিশোঠা নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ে। গ্রামে গ্রামে বসানো হয় পাহারা। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তায় চলাচলকারী বিভিন্ন গাড়িতেও শুরু হয় তল্লাশি। এভাবেই চলে যায় সিঙ্গাইরবাসীর একটি নির্ঘুম রাত।

এ ব্যাপারে জামশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিঠু বলেন, রোববার আনুমানিক রাত ৯টার দিকে থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) খন্দকার ইমাম হোসেন মুঠোফোনে আমাকে জানান ‘এলাকায় ডাকাতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ডাকাতির ব্যাপারে এলাকার সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার জন্য বলেন। এমন নির্দেশনা পেয়ে আমার ইউনিয়নের সকল সদস্যসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানানো হয়। পরে তাঁরা নিজ নিজ এলাকার মসজিদের মাইক থেকে সাধারণ মানুষকে ডাকাত প্রতিরোধে রাতে সজাগ থাকার কথা ঘোষনা করে।

একই কথা বলেন, উপজেলার সদর ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান মিঠু, চারিগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান শেখ সাজেদুল আলম স্বাধীন ও জামির্ত্তা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম রাজুসহ আরো অনেকেই। তাঁরাও থানা পুলিশের কাছ থেকে রাতে ডাকাতি হতে পারে এমন বার্তা পেয়ে নিজ নিজ এলাকার লোকজনকে সজাগ থাকার জন্য বলেন।

সিঙ্গাইর থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) নজরুল ইসলাম জানান, রোববার বিকালে থানায় খবর আসে গোবিন্দল গ্রামের মুকলেছ উদ্দিন ব্যাপারীর বাড়িতে একদল অপরিচিত লোক জড়ো হয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন খবরে ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এসময় বাড়ির মালিকসহ সবাই কৌশলে পালিয়ে যায়। পরে তল্লাশী করে ডাকাতি করার দেশীয় তৈরি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এঘটনায় বাড়ির মালিক মুকলেছ উদ্দিন, তাঁর স্ত্রী নাসিমা আক্তার ছেলে হƒদয় হোসেনসহ ১৪ জনকে আসামী থানায় মামলা হয়েছে। অন্য আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

 


Related posts

মন্তব্য করুন