সর্বশেষ সংবাদ

নবাবগঞ্জের নয়নশ্রী ইউনিয়নে বট-পাকুরের বিবাহ বার্ষিকী পালন, ৫ হাজার অতিথিকে আপ্যায়ন

	 brand bazaar

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার নয়নশ্রী গ্রামে বট-পাকুরের অভিনব বিবাহর ১২তম বার্ষিকী পালন করা হয়েছে। মঙ্গলবার এ উপলক্ষে পাঁচ হাজার লোককে দাওয়াত করে খাওয়ালেন এলাকাবাসী। বসেছে ৪ দিনব্যাপী গ্রাম্য মেলা।

নবাবগঞ্জের নয়নশ্রী ইউনিয়নে বট-পাকুরের বিবাহ বার্ষিকী পালন, ৫ হাজার অতিথিকে আপ্যায়ন

এলাকাবাসী জানান, প্রতি বছর ১৮ অগ্রহায়ণ বট-পাকুরের বিবাহ বার্ষিকীতে এলাকাবাসীসহ দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার কয়েক হাজার মানুষকে দাওয়াত দেওয়া হয়। দাওয়াতে হিন্দু, মুসলমান ও খ্রীস্টান ধর্মাবলম্বীদের আগমন ঘটে। এদের মধ্যে বেশির ভাগই অবিবাহিত তরুণ-তরুণীদের দেখা যায়। খিচুড়ি-পায়েস দিয়ে তাদের আপ্যায়ন করা হয়। এ উপলক্ষে এলাকায় গ্রাম্য মেলা বসে।

 

অনুষ্ঠানের আয়োজক কমল পাল জানান, আমি স্থানীয় রাহেন সাধুর ভক্ত ছিলাম। তিনি মুসলমান ধর্মাবলম্বী ছিলেন। তার আদেশে ৩৮ বছর আগে ইছামতি নদীর পাড়ে গাছ দুটো রোপণ করি। ২০০৬ সালের দিকে বাড়িতে বিবাহর বয়সী চার ছেলে-মেয়ে ছিল; কিন্তু তাদের বিবাহ হচ্ছিল না কিছুতেই। এক রাতে আমি স্বপ্নে দেখলাম বট-পাকুরের বিবাহ দিলে ছেলে-মেয়েদের বিবাহ হবে। ঐ বছরের ১৮ অগ্রহায়ণ বট-পাকুরের বিবাহ দিলাম। ঐ বছরই বড় ছেলে বাবুল পালের বিবাহ হয়। পরের বছর বিবাহ হয় তার বড় মেয়ে কল্যাণী পালের। এভাবে তার সব ছেলে-মেয়ের বিবাহ হয়েছে। সেই থেকে ১২ বছর যাবত্ এ উত্সব পালন করে আসছেন তিনি। এলাকাবাসীও তাকে সহায়তা করছেন।

 

স্থানীয় বাসিন্দা মো. ফারুক জানান, এখানে ঝাড়ফুঁক করা হয় না। মানত করে যে যা দিয়ে যায় তাই নেওয়া হয়। এ অনুষ্ঠান এলাকায় উত্সবে পরিণত হয়েছে।

 

অনুষ্ঠানে আসা মালতী রানী জানান, পরিবারের মঙ্গল কামনায় প্রতি বছর এ অনুষ্ঠানে এসে থাকি। বট-পাকুরের জন্য মানতের কাপড়, মিষ্টি, সিঁদুর দিয়ে গেছি।

 

রাহুতহাটি গ্রামের হেনা বেগম জানান, গত বছর অসুস্থ ছিলাম। মানত করে গিয়েছিলাম সুস্থ হলে নতুন কাপড় দেব। এবার নতুন কাপড় দিয়ে গেলাম।
News Source by : Ittafaq


Related posts

মন্তব্য করুন