সর্বশেষ সংবাদ

গোলাম আজম আর নেই!

1378009000মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ৯০ বছর সাজাপ্রাপ্ত গোলাম আযম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

গোলাম আযমের পিএস আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি ৯টার কিছু পরেই নিশ্চিত করেছেন তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা রাত ১১টার পর দেন চিকিৎসকরা।

গোলাম আযমের আইনজীবী ও পরিবার তার মৃত্যু বিষয়টি জানিয়েছে। তবে মেডিকেল কর্তৃপক্ষ এখনো তাকে মৃত ঘোষণা করেনি।

এর আগে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সংকটজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন জামায়াতের সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযম বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন।

আজ (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় একটি অনলাইনেকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে গোলাম আযমের ছেলে আব্দুল্লাহিল আমান আযমী সেসব তথ্য জানান।

সাক্ষাৎকারে আযমী জানান, তার বাবা বলেছেন, যেহেতু তিনি জামায়াতের রুকন, তাই মৃত্যুর পরে যেন তার নামাজে জানাজা আমীরে জামায়াত মতিউর রহমান নিজামী পড়ান।

কিন্তু একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নিজামী কারাগারে আটক এই তথ্য স্মরণ করিয়ে দিলে গোলাম আযম বলেন তাহলে যেন তার নামাজে জানাজা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী পড়ান।

সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে আজমী বলেন, তিনি বাবাকে বলেছেন, নামাজে জানাজা নিয়ে তার চিন্তার দরকার নেই, আল্লাহ তাকে উঠিয়ে নিলে তার নামাজে জানাজা পড়ানোর জন্য হাজার হাজার লোক এগিয়ে আসবেন।

মৃত্যুর পরে অধ্যাপক গোলাম আযমকে কোথায় সমাহিত করা হবে-এমন প্রশ্নের জবাবে আজমী বলেন, মগবাজার কাজী অফিস লেনে পারিবারিক গোরস্থানেই তাকে সমাহিত করা হবে।

আজমী বলেন, আমরা মোট ৬ ভাই। এ ছাড়া আমাদের সন্তান রয়েছে ২০ জন। আমি ছাড়া বাকি ৫ ভাই সপরিবারে বিদেশে থাকেন। তাদেরকে বাবার শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা জানানো হয়েছে। এরই মধ্যে কেউ কেউ টিকেট কেটে ফেলেছেন এবং বাকিরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সবাই আসলে পারিবারিকভাবে আলোচনা করেই বাবার দাফনের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

তবে, পারিবারিক গোরস্থানে দাদার কবরের পাশেই তাকে সমাহিত করার বিষয়টি এখন পর্যন্ত বিবেচনায় আছে বলে জানান আযমী।

এদিকে, গোলাম আযমের সবশেষ শারীরিক অবস্থার বিষয়ে জানতে চাইলে আযমী বলেন, আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকেই ওনার প্রেসার কমতে শুরু করে। প্রেসার এক পর্যায়ে ৫০/৩০ এ নেমে আসে। ডাক্তাররা বার বার প্রেসার বাড়ানোর চেষ্টা করছিল। লাইফ সাপোর্টের সব ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে বিকেল পর্যন্ত তার জ্ঞান ছিল।

আযমী বলেন, বাবার ঘাড়ে স্যালাইন দেয়া হচ্ছিল। তার শারীরিক অবস্থা খুবই আশংকাজনক। আমরা তার ব্যাপারে শংকিত, চিন্তিত।

অধ্যাপক গোলাম আযমের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে আযমী বলেন, দেশ-বিদেশের সবার কাছে দোয়া চাই যেন আল্লাহ বাবাকে সুস্থ করে দেন।

তিনি সরকারের কাছে আবেদন করে বলেন, তার বাবাকে মুক্তি দিয়ে অবিলম্বে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ করে দেয়া হোক।

দেশবাসীর প্রতি অধ্যাপক গোলাম আযমের কোন আহবান আছে কি না জানতে চাইলে আযমী বলেন, তিনি দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানিয়েছেন।

জামায়াতের নেতাকর্মীদের প্রতি তার কোন নির্দেশনা আছে কি না-জানতে চাইলে আযমী বলেন, তিনি রাজনৈতিক বিষয়ে খুব একটা কথা বলতেন না। সবসময় দেশবাসীর জন্য দোয়া করতেন।

যে কোন ঈদে বা অন্য উপলক্ষ্যে তার সাথে দেখা করতে গেলে তিনি বলতেন দেশের মানুষের জন্য দোয়া করেছি, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এ ব্যাপারে আমার মা বিবৃতিও দিয়েছেন। দেশের উন্নতি ও কল্যাণের জন্য একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

 



Related posts

মন্তব্য করুন