সর্বশেষ সংবাদ

বীরাঙ্গনা মায়েদের জন্য দিতে হবে আরও পথ পাড়ি

বীরাঙ্গনা মায়েদের জন্য দিতে হবে আরও পথ পাড়ি
আমরা বারবার লিখি ধর্ষণের বিরুদ্ধে। বারবার লিখি বীরাঙ্গনাদের জন্যেও। যদিও তাতে কোথাও কৃষ্ণপক্ষ বদলে শুক্লপক্ষ হয়ে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না, বরং বাংলাদেশে ধর্ষণ বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশের কোনো পুরুষ নিজের ক্ষমতার দাম্ভিকতায় কোনো মেয়েকে ধর্ষণ করছে ভাবতেই ঘৃণায় আমি কুঁচকে যাই।
যে দেশে পাকিস্তানি সৈন্যরা অত্যন্ত নির্মম ও বর্বরভাবে চার লাখের বেশি নারী ও শিশুকে ধর্ষণ করেছে, সেই দেশের পুরুষ কী করে এই দেশের নারীদের ধর্ষণ করে এবং ধর্ষণের পর সেই ভিডিও চিত্র প্রচার করে! সেই দেশের শিক্ষিত পুরুষ কী করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবাসে বসে ধর্ষণের সেঞ্চুরি করতে পারে! একাত্তরের নির্যাতিত আমাদের মা-বোনদের প্রতি সম্মান দেখিয়েই তো এই জাতির পুরুষদের উচিত ছিল ধর্ষণকে ‘না’ বলা, ধর্ষণ রুখে দেওয়া। আমাদের সকল নৈতিকতা কি সরকারকে গড়ে দিতে হবে?
এই বাংলাদেশেই গারো সমাজে ধর্ষণ বলে কোনো শব্দ নেই। গারো পুরুষ বাংলাদেশেরই জলে-ঝড়ে বেড়ে ওঠা পুরুষ। তারা ধর্ষণের কথাও দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারে না।
শান্তির সময়ে ধর্ষণ ও যুদ্ধে ধর্ষণের মাঝে ফারাক অনেক। যুদ্ধে ধর্ষণ জৈবিক কারণে হয় না। এখানে চলে ‘এথনিক ক্লিনজিং’। একটি স্বাধীনতাকামী জাতিকে চরমভাবে অপমানিত করার জন্য এবং তাদের পরিবারে ও সমাজে ধ্বংসের দগদগে ক্ষত রেখে দিতেই যুদ্ধে ধর্ষণ করা হয়। আর তাই যুদ্ধে গণধর্ষণের সংখ্যাই বেশি। এর বীভৎসতাও অকল্পনীয়।



Related posts

মন্তব্য করুন