মিডিয়ার উপর ক্ষুব্ধ হ্যাপি

মিডিয়ার উপর ক্ষুব্ধ হ্যাপি

মিরপুর মডেল থানায় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের পেসার মো. রুবেল হোসেনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছুটিতে থাকার কারণে ২৮ ডিসেম্বর ফরেনসিক প্রতিবেদন প্রকাশ হতে পারে। অথচ এর আগেই যে যার মতো মনগড়া ফরেনসিক রিপোর্ট প্রকাশ করে যাচ্ছে যা অনেকটাই অবৈধ ও আদালত অবমাননার শামিল। এভাবেই নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করলেন আলোচিত চলচ্চিত্র অভিনেত্রী নাজনীন আক্তার হ্যাপী।

চিত্র নায়িকা নাজনীন আক্তার হ্যাপী বলেন, ‘দুইদিন ধরে নিজের রাগকে নিয়ন্ত্রণ করেছি’। যে যার মতো ফরেনসিক রিপোর্ট প্রকাশ করে যাচ্ছে। যা মিডিয়ার কাছে মোটেও কাম্য নয়। বুধবার দুপুরের দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে মিরপুর থানা পুলিশের হাতে আমার ফরেনসিক রিপোর্টের কপি তুলে দেয়া হয়। এরপর মিরপুর থানা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে তার উল্টোটা। মনে হচ্ছে কিছু মিডিয়াই কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সবার কাছে আমার একটি প্রশ্ন, এরকম একটি সেনসেটিভ ইস্যু নিয়ে মনগড়া রিপোর্ট প্রকাশ করা কি যুক্তিসংগত? ‘সাম্প্রতিককালে কোনোরকম আপনার সঙ্গে কারো দৈহিক সম্পর্ক হয়নি বলে খবর শোনা যাচ্ছে’। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তেজিত হয়ে হ্যাপী বলেন, ‘দেখুন সর্বশেষ ঘটনা ঘটেছে ২ ডিসেম্বর। আর মামলা করেছি ১৩ ডিসেম্বর।

সাধারণত ৪৮ ঘন্টা পর দৈহিক মেলামেশার খবর ফরেনসিক রিপোর্টে খুব একটা ফুটে উঠে না। তবে এটা আমাকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, একজনের সঙ্গে শারীরিক মেলামেশা হয়েছে এমন তথ্য রিপোর্টে উঠে এসেছে। তবে কার সঙ্গে হয়েছে তা ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া বলা যাবে না।
হ্যাপী আরও বলেন, ‘এবার রুবেলের ডিএনএ টেস্ট করা দরকার’ এজন্য শীঘ্রই আদালতে পিটিশন দেব। তখনই আসল সত্য প্রকাশ পাবে। কারণ আমি কোনো মিথ্যার আশ্রয় নেইনি। ‘

এদিকে মিরপুর থানায় ফরেনসিক রিপোর্ট পেশ হওয়ার পরপরই নানারকম গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। সময় যত গড়াচ্ছে ডাল পালা মেলে বেগবান হচ্ছে এসব গুঞ্জন। এমনকি একাধিক লোকের সঙ্গে হ্যাপীর মেলামেশা হয়েছে বলে রিপোর্টে প্রকাশ হয়েছে এমন কথাও শুনা যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হ্যাপী বলেন, ‘এগুলো সবই মনগড়া’ কথাবার্তা। বুঝতে পারছি না প্রকাশ হওয়ার আগেই প্রতিবেদন নিয়ে সবাই এত উদগ্রীব কেন? তাদেরকে বলতে চাই ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের অধ্যাপক হাবীবুজ্জামানের সঙ্গে কথা বলে এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করুন।

তিনি বুধবার মিরপুর থানা পুলিশের কাছে রিপোর্ট হস্তান্তর করেছেন। সেই প্রতিবেদনে হ্যাপী একজনের সঙ্গেই শারীরিক মেলামেশা করেছেন বলে তথ্য উঠে এসেছে।
অন্যদিকে হ্যাপীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট তুহিন হাওলাদার বলেন, ‘এরকম একটি স্পর্শকাতর মামলা নিয়ে মনগড়া কথোপকথন প্রকাশ যুক্তিসংগত নয়’। মনে রাখতে হবে, রিপোর্ট প্রকাশের আগে বিভিন্ন “অনিচ্ছুক” বরাত দিয়ে মনগড়া রিপোর্ট প্রকাশ উচিত নয়। কারণ এটি নারী ও শিশু নির্যাতন আইন অবমাননার শামিল।

দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে রিপোর্ট প্রকাশ করুক, এটাই প্রত্যাশা। এছাড়া শিঘ্রই আদালতে একটি পিটিশন দেব, যেন রুবেলের ডিএনএ টেস্ট করা হয়। ওই টেস্ট সম্পন্ন হলেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ ডিসেম্বর বিকালে চলচ্চিত্র অভিনেত্রী নাজনীন আক্তার হ্যাপী জাতীয় ক্রিকেট দলের পেসার রুবেল হোসেনের বিরুদ্ধে মিরপুর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেন। এরপর হ্যাপীকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে তার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়।
ফরেনসিক পরীক্ষা শেষে মিরপুর থানায় নিয়ে তাকে মামলাসংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বাসায় পাঠানো হয়। এর মধ্যে রুবেল হোসেন হাইকোর্টে জামিন নিতে যান এবং চার সপ্তাহের আগাম জামিন পান।

http://brandbazaarbd.com/product-category/camera-video-camera/



Related posts