সর্বশেষ সংবাদ

বাংলাদেশের ২০ লাখ নতুন ভোটারের জন্মদিন ১ জানুয়ারি!

চলমান ভোটার তালিকা হালনাগাদে বেশিরভাগ নতুন ভোটারের জন্মতারিখ ১৯৯৬ সালের ১ জানুয়ারি। ৪০ লাখ নতুন ভোটারের তথ্য সংগ্রহের পর বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নজরে এসেছে। নতুন ভোটারদের সিংহভাগ একই বছরের একই দিনে কীভাবে জন্মগ্রহণ করল, তা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ইসির মাঠ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় প্রতিনিধিরা বাছবিচার না করে সবাইকে ঢালাওভাবে একই তারিখ উল্লেখ করে জন্মসনদ দিয়েছেন। এ কারণে বেশিরভাগ ভোটারের জন্মতারিখ মিলে গেছে। জানা গেছে, এবার ভোটার হতে হলে ১৯৯৬ সালের ১ জানুয়ারির আগে জন্মগ্রহণ করতে হবে। এ কারণে অনেক জনপ্রতিনিধি নিজেদের ভোট বাড়াতে ১৯৯৬ সালের ১ জানুয়ারি জন্মতারিখ লিখে সনদপত্র দিয়েছেন। তবে অনেক কমবয়সীও ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, হালনাগাদ কার্যক্রমে নতুন ভোটারদের জন্মদিন ও জন্মসাল একই হওয়াটা অস্বাভাবিক। তথ্য সংগ্রহকারী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অবহেলার কারণে বেশিরভাগ ভোটারের জন্মতারিখ একই হয়েছে। এর আগে ২০১২ সালের হালনাগাদেও একই সমস্যা দেখা দিয়েছিল।

 রোববার নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবু হাফিজ বলেন, নতুন ভোটারদের অধিকাংশের জন্ম একই বছর একই দিনে হওয়ার বিষয়ে আমি জানি না। জন্মনিবন্ধন সনদ এবং এসএসসি সনদ দেখে ভোটারদের নিবন্ধিত করার জন্য সবাইকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, এরই মধ্যে ৪০ লাখ নতুন ভোটার হালনাগাদ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত চার শতাধিক উপজেলার ভোটার তালিকার কার্যক্রম শেষ হয়েছে। বাকি কিছু উপজেলা, ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে তথ্য সংগ্রহ শেষে রেজিস্ট্রেশন কাজ চলছে। জানুয়ারি মাসে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।

কয়েকজন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জানান, ভোটার হতে হলে বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হতে হবে। অনেকে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে জন্মনিবন্ধন সনদে ভুয়া জন্মতারিখ উল্লেখ করে ভোটার হয়ে যাচ্ছে। আবার স্থানীয় চেয়ারম্যানরা রাজনৈতিক স্বার্থে নিজের এবং দলের ভোট বাড়ানোর জন্য অনেক অপ্রাপ্তবয়স্ককে ভোটার বানাচ্ছেন। যেসব ভোটার এসএসসি পাস, তাদের এসএসসি সনদ দেখে বয়স যাচাই করা যাচ্ছে। কিন্তু যাদের লেখাপড়া নেই, তাদের বয়স বিচারে জন্মনিবন্ধন সনদ অনুসরণ করা ছাড়া বিকল্প পথ নেই। এতে সব ভোটারের জন্ম একই দিনে হয়ে যাচ্ছে। যাদের বয়স নিয়ে সন্দেহ হচ্ছে, তারা তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত পড়লেও তাদের কাছ থেকে প্রধান শিক্ষকের প্রত্যয়নপত্র চাওয়া হচ্ছে।

রাজশাহী বিভাগের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সুভাস চন্দ্র ম-ল জানান, কারও বয়স নিয়ে সন্দেহ হলে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানের কাছে এ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হয়। চেয়ারম্যান উত্তর দেন, খেটেখাওয়া কুলি-মজুর মানুষ। পরিশ্রমের কারণে শারীরিক বৃদ্ধি তেমন হয়নি, কিন্তু বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে।

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ আবদুল বাতেন জানান, চেয়ারম্যানরা সনদে জন্মতারিখ লিখছেন ১৯৯৬ সালের ১ জানুয়ারি। এক্ষেত্রে আমাদের কিছু করণীয় নেই। আলোকিত বাংলাদেশ



Related posts

মন্তব্য করুন