ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভোটার তালিকা সংরক্ষণ করবে ইসি

ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভোটার তালিকা সংরক্ষণ করবে ইসি

এ-ই প্রথম কেন্দ্রীয়ভাবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভোটার তালিকা সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রাথমিকভাবে নবম-দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটার তালিকা সংরক্ষণের মাধ্যমে এ পক্রিয়া শুরু হবে। বর্তমানে জেলা পর্যায়ে নির্বাচন কার্যালয়গুলোতে কাগজে কলমে অথবা কম্পিউটার হার্ডড্রাইভে ভোটারদের তথ্য সংরক্ষিত আছে। তবে সেটাও ২০০০ সালের পরের সব তথ্য। এর আগের তথ্য কোথাও পূর্ণাঙ্গরূপে সংরক্ষিত নেই। এভাবে তথ্য হারিয়ে যাওয়া রোধ করতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে করা খসড়া ভোটার তালিকাও পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ইসি সূত্র জানিয়েছে, আট টেরাইবাইট মেমোরি সম্পন্ন দুটি হার্ডডিস্কের মাধ্যমে ইসির আইসিটি অনুবিভাগ ও লাইব্রেরি শাখা আসন ভিত্তিক ভোটার তালিকা সংরক্ষণ করবে। তবে হার্ডডিস্কগুলো সচল রাখা হবে কি না সে ব্যাপারে জানতে চাইলে কমিশনের সিস্টেম ম্যানেজার রফিকুল হক জানান, হার্ডডিস্কগুলো সার্বক্ষণিক সচল রাখা হবে কি না সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে এমন হতে পারে যে, মাঝে মাঝে কম্পিউটারে সংযুক্ত করে সচল আছে কি না পরীক্ষা করা হবে।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) তদন্ত সংস্থা ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বরের জাতীয় পরিষদ ও ১৭ ডিসেম্বরের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনের তথ্য চাইলে বেকায়দায় পড়ে ইসি। ওই নির্বাচনের তথ্য দিতে ব্যর্থ হয়। পরে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে শরণাপন্ন হয়েও কাজ হয়নি। শেষমেষ মুক্তিযুদ্ধ গবেষক এএসএম সামছুল আরেফিন লেখা ‘বাংলাদেশের নির্বাচন ৭০-২০০৮’ শীর্ষক বই থেকে ওই তথ্য সরবরাহ করা হয়।
সূত্র আরো জানায়, অর্পিত সম্পত্তি আইনের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সময়ের ভোটার তালিকার প্রয়োজন পড়ে। এছাড়া জমিজমা সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রের ভোটার তালিকা সহায়ক ভূমিকা পালন করে। কিন্তু বিভিন্ন সময় তথ্য চেয়ে ইসিতে আনুষ্ঠানিক আবেদন করলেও তথ্য দিতে ব্যর্থ হয়।
এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজ বলেন, আমরা নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটার তালিকার তথ্য সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইতোমধ্যে কমিশন এ অনুমোদন দিয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভোটার তালিকা সংরক্ষণ করা হলে কোন নির্বাচনে কতজন ভোটার ছিল, কোন নাগরিক কোন এলাকার ভোটার- সেই তথ্য সুনির্দিষ্টভাবে থাকবে। এছাড়া জমিজমা মামলা ছাড়াও অনেক ক্ষেত্রে ভোটার তালিকার প্রয়োজন পড়ে তখন তথ্য সরবরাহ করতে ইসিকে আর সমস্যায় পড়তে হবে না।
উল্লেখ্য, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৮ কোটি ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৩ জন। এছাড়া দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৯ কোটি ১৯ লাখ ৬৫ হাজার ১৬৭ জন। এই দুই নির্বাচনের তথ্যই আপাতত সংরক্ষণ করবে নির্বাচন কমিশন।

52_n



Related posts

মন্তব্য করুন