সর্বশেষ সংবাদ

একটি চিঠি অতঃপর বিচ্ছেদ

একটি চিঠি অতঃপর বিচ্ছেদ
একটি চিঠি অতঃপর বিচ্ছেদ
——-
সাহানা ক্যাফেটেরিয়ার নিরেট চায়ের কাপে তুমি ঠোঁট রেখনা,
আমার ভাল লাগেনা” বাংলাদেশর এক অখ্যাত কবির লেখা
একটা কবিতার দু’লাইন একক আবৃওি শুনে
বিকালে বাষায় এলাম,ঘড়িতে তখন বাজে সন্ধ্যা ৬টা

রূমে পা দিতে না দিতেই রূবা আমার ছোট বোন এসে বলল, ”তোমার বান্ধবীর চিঠি কি খাওয়াবে বল ভাইয়া ।”
একটু থমকে দাঁড়ালাম…ভার্সিটির বাইরে আমার তো কোন বান্ধবী নেই,
রূবা যেন ”মিরাকেল” হাতে দিল ।

কাউকে লিখলে দিন-কতক তাঁর চিঠির প্রতীক্ষা করি….তুমি লিখবে ভাবিনি, ভাবতে পারছিনা ………
স্বাভাবিক ভাবেই কেউ লিখলে খুশী হই । তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ আছেন যাদের চিঠি পেলে নিজেকে একটু অন্যরকম মনেহয় ।

সেইসব চিঠি সাথে সাথেই খুলিনা,
আনন্দটাকে দীর্ঘস্হায়ী করার জন্য নিদেন পক্ষে একদিন পরে খুলি ।

ভেবে ছিলাম তোমার চিঠিটা অন্তত ৬ মাস পরে খুলব ।
মিথ্যে অভিমানে নিজেনে ৫ টি বছর যে দুরে সরিয়ে রেখেছে সে লিখবে কি কারনে , অবাক হয়েছি বটে ?

সে জন্য ওটাকে লকারে রেখে ছিলাম,কিন্তূ বিছানায় যেতেই ঘটল বিপওি….এপাশ ওপাশ করি, একবার ডানে একবার বাঁয়ে , চিৎ,উপুড় কোনটাই বাদ দিলাম না কিন্তূ ঘুমের দেখা নেই ।

শেষে ঘুম আনার অব্যর্থ কৌশল যেটা আমার কাছে খুবই জনপ্রিয়–৫০০–১ পর্যন্ত গোনা শুরূ করলাম কিন্তূ সবই বিফল হল ।
শেষটায় মনকে বুঝালাম মাঝে মাঝে নিয়ম ভঙ্গ করাটা এমন কিছু দোষের নয় । মানুষ তো নিয়ম ভাঙ্গার জন্যেই নিয়মের অবতারনা করেছে ।
কিন্তূ মনের খানিকটা অংশ বশে এলেও অন্য অংশের তীব্র প্রতিবাদের কারনে
সে রাতে তোমার চিঠি  খুলতে সাহস হয়নি ।

6 Feet x 8 Feetসারারাত ভেবেছি কি লিখতে পারো তুমি ? দশটি মোম জ্বলে জ্বলে নিভে গেল কিন্তূ
আমার চিন্তার আগুন জ্বলেই যাচ্ছে , ভয় হচ্ছে কি আছে লেখা চিঠিতে খারাপ কিছু নয়তো ? ভাবতে ভাবতে কখন সকাল হল টেরও পেলাম না ………

কিন্তূ সকাল হতেই দেখি অবাক কান্ড,মনে হল দিনটা অন্য দশটা-পাঁচটা দিনের থেকে একটু ভিন্নতর,
নাস্তা করতে গিয়ে দেখি পেট ভরা,কিছু খেতে ইচ্ছে করছেনা,

শিশুকে যেমন করে খেলনা দিয়ে ভূলানো হয় তেমনি মনকে বোঝালাম–”ঠিক আছে কষ্ট করে একটু খেয়ে নাও,
রূমে গিয়েই চিঠি খুলবো ।”

র্ভাসিটিতে যাওয়ার জন্য তৈরী হলাম চিঠিটা বাঁ-পকেটে নিলাম,
ক্লাসে ঠুকেই মনটা উসখুস করছিল তাই আজ আর ক্লাস করা হলনা,

বের হয়েই প্রিয় মুহুর্তে খামটি খুললাম—

একটি নীল কাগজে মোরানো ছোট্র স্বর্নের টিপ, আমার বুকটা যেন কামড়ে দিল কিছু স্মৃতি……….

আজ থেকে ১০ বছর আগে এক কুয়াচ্ছন্ন শীতের সকালে যশোরের বি.এ.ডি.সি কোয়ার্টারের ঠিক পাশে এখানের স্হানীয় এক কৃষকের ছোট্র একটা সর্শে ক্ষেতের ধারে রাত্রিকে এই স্বর্ণের টিপ পড়িয়ে

প্রথম ভালোবাসার প্রকাশ করেছিলাম….সেইদিনটি আজো আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ দিন হয়েই আছে ।
শুক্রবার কুয়াশায় ঢাকা ভোরে রাত্রি এল, জানতে চাইল কেন ডেকেছি,

ভয় যেন ওকে তাড়া করছে ,অনেক বোঝালাম অভয় দিলাম …..কিন্তূ কিছুতেই বোঝাতে পারছিলাম না…..
আমি হঠাৎ চিৎকার করে বললাম,” দেখ রাত্রি তোমার গাঁয়ের কাঁচাপাকা রঙটা চারদিকে আলো ছড়িয়ে দিয়েছে,সর্শে ফুল গুলিও হার মেনেছে তোমার কাছে ,”

এবার একটু মুচকি হাসি দেখা গেল ওর ঠোঁটে ।

অপূর্ব ছিল ওর হাসি । এমন মিষ্টি করে হাসতো ও…….

কতদিন, কত যে ঘন্টা , ওকে অকারনে হাসিয়েছি শুধু ওর হাসি দেখার জন্য ।

একবার ওকে ১ ঘন্টা হেসে থাকতে হয়েছে আমার জন্য,,,,আর আমি একটি ঘন্টা অপলক তাকিয়ে ছিলাম
কিভাবে পেরছিলাম জানিনা , হয়ত ভালোবাসার গভীরতার কারনে ।

আমি তোমাকে হারাতে পারবোনা কিছুতেই ”রাত্রি”   , আজ তোমাকে আমার মনের কথাটি জানাবই , মনে মনে বলতে থাকলাম ।

রাত্রিকে বললাম তোমাকে একটু চোখ বন্ধ করতে হবে……

ওর হাজারটা প্রশ্ন ”কেন চোখ বন্ধ করবো , কি করবেন আগে বলেন ?”

আমি বললাম ” দয়া করে আগে চোখ বন্ধ কর ? তারপর বলছি ……..
ও চোখ বন্ধ করল …… আমি অবাক হয়ে ওর
অপূর্ব সুন্দর  মুখখানি দেখলাম ,

বিধাতা বুঝি পৃথিবীর সকল মায়া দিয়ে ওর মুখটি গড়িয়েছে,

রাত্রি  চোখ বন্ধ করে আছে আর আমি ওকে মন ভরে দেখে নিলাম ,

সারা জীবন ধরে দেখলেও আমার মনের তৃষ্ণা হয়তো মিটবে না ।

রাত্রি  বিরক্তির স্বরে বলল ”আর কতক্ষন চোখ বন্ধ রাখবো ,

আমার বুঝি কষ্ট হয়না ? ”

ওর কথা এত মিষ্টি হৃদয়কে নাড়া দেয় ।
ওর মুখখানি গভীর আবেগে আমার দু’হাতে আলতো করে ধরলাম,

ওর কোমল মসৃন কপোলে ছোট্র করে চুমো খেলাম কিছুটা ভয় কিছুটা সাহস নিয়ে………

রাত্রি আমার বুকে মুখ লুকিয়ে কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলল ””এ তুমি কি করছো ” ?”

দ্বিধা সংকোচ ভয় লাজে বুঝি ওর চোখে জল গড়িয়ে পড়ল ,
ওর মনের কম্পন শরীরের কম্পন আমি অনুভব করলাম,
কিছুটা ভয় কিছুটা লজ্জায় ও যেন লজ্হজাবতী লতা হয়ে গেছে ।

ওর ভয় কাটানোর জন্য বললাম ”আজ প্রথম আমাকে ”তুমি” বললে , আর একবার বল ……..রাত্রি পাথরের মত নিশ্চুপ ভাবে দাঁড়িয়ে রইল …কিছুই বলল না ।

”রাত্রি”  তুমি কি জানো তোমার চোখ দুটি মুক্তোর মতই জ্বলে ?

পৃথিবীতে এত সুন্দর চোখ আর একটিও নেই …..তুমি জানো তোমার চোখ সবসময় হাসতে থাকে ?”

ওর জল মুছিয়ে দিতে দিতে বললাম” কাঁদলেও কিন্তূ তোমার চোখ দুটি হাসে ”

শুনেই ও মুচকি হেসে আমাকে ধাক্কা দিয়ে শর্সে ক্ষেতের মধ্যে ফেলে দিল ।

আমি বললাম ”তোমাকে হাসানোর জন্যই বলেছিলাম ।”
আমাকে ধরো , উঠতে দাও দয়া করে । রাত্রি আমার হাত ধরতেই আমিও ওকে ফেলে দিলাম ,
ওতো তখন অবুঝের মত কান্না ……

আমি বললাম
”এখন আর কাঁদতে হবেনা আর কিছু বলতে হবেনা এখানে চুপটি করে বস ।”
চোখ বন্ধ কর …….
আমি বাঁ হাতে চোখ ধরে ডান হাত দিয়ে ওর কপোলে স্বর্ণের টিপ পড়িয়ে দিয়ে বললাম
” আমি তোমাকে ভালবাসি রাত্রি”

”তুমি কি আমায় বাসো ?”
রাত্রির  মুখে কোন কথা নেই কি করবো বুঝতে পারছিনা,

ওর হাত দুটি টেনে আমার বুকের মধ্যে রেখে বললাম.”কিছু বল নাহয় আজ সারাদিন এভাবেই তোমার হাত ধরে রাখবো , বাষায় ও কিন্তু যেতে পারবেনা ” ।

কিছু বল….  রাত্রি আমাকে ছাড়া আর কারো তুমি হয়োনা, তাহলে তুমি সুখি হবেনা ।

আমি সত্যি বলছি ……চিৎকার করে বললাম ” শর্সে ফুল তোমরা শোন ”আমার রাত্রি শুধুই আমার থাকবে……
আর যদি না থাকে তবে ও সুখি হবেনা ।”

রাত্রি হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে উঠে দাঁড়াল ।

হাটতে শুরু করল আমি বসে রইলাম,

হঠাৎ আমার চুলে নরম হাতের স্পর্শ অনুভব করলাম ,

আমার চুলে হাত বুলাতে বুলাতে  রাত্রি  বলল ” তোমার মুখ থেকে এ কথাটি শোনার জন্য একটি বছর আমিও অপেক্ষা করছি । ”
আজ আম্মিকে অনেক মিথ্যেকথা বলে এখানে এসেছি
আমিও কিছু বলতে চাই…..

nikon-D3200রাত্রিকে   বললাম আমার সামনে এসে বল ,বলেই ওকে আমার কাছে টেনে নিলাম বসালাম আমার পাশে ।

ও যে এতটা দুষ্ট আগে বুঝিনি ” আমার হাতে চিমটি কেটে বলল ”আমিও তোমাকে ভালবাসি আকাশ  ভাইয়া ” বলেই দৌড়ে পালাল ।

আমি বললাম রাত্রি  শোন ”টিপ কিন্তূ হারাবে না ……
আমাদের যখন ছেলে হবে তখন সেও তাঁর প্রেমিকাকে এই টিপ পড়িয়ে ভালোবাসার কথা জানাবে …… রাত্রি হাসতে হাসতে বলল ” ঠিক আছে আকাশ ভাইয়া  তাই হবে ।”

আমার স্মৃতির পাতায় আজো প্রিয় মুহুর্ত হয়ে রইল সেই দিনটি ।
মনে হল আজ আবার যেন সেই ক্ষনটিতেই হারিয়ে গেছি ।
তবে আমার প্রিয় মূর্হুত অপ্রিয়তায় ভরে দিল  রাত্রির  লেখা কথা গুলো….

আমার জীবনে আরো একটি আঘাত এভাবে আসবে ভাবতে পারিনি । চিঠিতে ছোট্র দুটি কথা লেখা ”বউ নিয়ে চলে এস ,আমার বিয়ে ৮ ই অক্টোবর ।”

আমার জীবনটাই যেন এলোমেলো হয়ে গেল ,
ক্লাস না করেই বাষায় চলে গেলাম

সারাদিন দরজা বন্ধ করে ফিরে গেল ৫ বছর আগের সেই স্মৃতিময় দিনে ।

রাত্রি  বয়স তখন কত হবে ১৪-১৫, আর আমার ১৮ ,

রাত্রি   প্রতি সেই ছোট্র বেলা থেকে অসম্ভব ভাল লাগা ছিল
,
ওর চলা,কথা বলা,মায়াবি চাহনি অন্যরকম আবেগে আবৃষ্ট করে রাখত আমাকে ।
রাত্রি অসম্ভব মধুর হাসি আজো আমার কষ্ট ভুলিয়ে দেয় ।

ওর চোখের মায়াবি চাহনিতে আজো মুগ্ধ হয়ে আছি ।

আর ক্ষনে ক্ষনে ওর অভিমান সেত নতুন গোলাপ ফোটার মতই সুন্দর ।

একদিন কথা না হলে সে কি অবুঝ অভীমান,

ওর অভীমানে চারপাশের পরিবেশটাও যেন থমথমে হয়ে যেত ।

এত ভালবাসা এত চাওয়া-পাওয়া সব শেষ করে দিল একটি ছোট্র চিঠি ।
সেদিন ছিল রবিবার,সবাই কলোনীর মাঠে খেলছি ,

রাত্রি এল । ওকে দেখে ওর কাছে গেলাম ।

বললাম চলো আজ দুজনে ছাদে গিয়ে গল্প করি ।

ছাদে যেতেই তিথি আমার সহপাঠি বলল ”তোমার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম এটা রাখ ।” বলেই একটা কাগজ আমার হাতে দিয়ে কিছু না বলেই চলে গেল ।

কিছু বোঝার আগেই  রাত্রি  আমার হাত থেকে কাগজটা নিয়ে পড়তে শুরু করল । চিঠিতে কোন নাম উল্লেখ ছিলনা শুধু লেখা ছিল ”

আমার জন্য ছেলে দেখা হচ্ছে আমি কিন্তূ তোমাকে ছাড়া আর কাউকে বিয়ে করতে পারবোনা । প্রয়োজনে পালিয়ে যাবো তোমাকে নিয়ে ।”

চিঠিটা পড়া শেষ করে  রাত্রি  কিছু না বলে কাঁদতে কাঁদতে চলে গেল ।

তিতি আর মামুন দুজন দুজনকে ভালবাসে ।

ওদের চিঠি আদান-প্রদানের মাধ্যমটা আমিই ছিলাম কিন্তূ সে কথা  রাত্রিকে  জানাতে পারলাম না ।পরদিন সকালে আমি আমার আম্মুকে নিয়ে পটুয়াখালি চলে যাই , আমার নানু অসুস্হ তাকে দেখতে । দীর্ঘ একটি মাস নানুর কাছে থাকতে হল অসুস্হতার কারনে ।

একমাস পর ফিরেই প্রথমে  রাত্রির  বাষায় যাই কিন্তূ ওকে পেলাম না ।

পরে জানলাম ওরা বদলী হয়ে ঢাকাতে চলে গেছে ।

সেই থেকে আমাদের সব যোগাযোগ বন্ধ, সেই তো ভুল বুঝে চলে গেলে দীর্ঘ পাঁচ বছর পর তুমি লিখলে,

পাঁচটি বছর এমন কোন মূর্হুত নেই তোমাকে ভাবিনি…বিশ্বাস নিয়ে বেঁচে ছিলাম একদিন তুমি লিখবে, ভুল ভেঙে আমার কাছে ফিরবে ।

কিন্তূ সে ফেরা এতটা কঠিন হবে কে জানত ?

দুটি দিনও যেন দীর্ঘ সময় মনে হচ্ছে ।

যত কষ্টই হোক রাত্রির কাছে যেতে হবে আমাকে ।

বাষায় কাউকে কিছু না বলে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হলাম ।
পাচঁ বছরে কত কিছু পাল্টে গিয়েছে,

রাত্রি দেখতে কেমন হয়েছে ?
আগের সেই চঞ্চলতা ,কথায় কথায় অভীমান করা,কিছু হলেই দৌড়ে পালিয়ে যাওয়া,এখনো কি এমন আছে নাকি পাল্টে গিয়েছে ?
ভাবতে ভাবতে কখন যে পথ ফুরিয়ে এল টের পেলামনা ।

অনেক কষ্টে বাষার ঠিকানা খুঁজে পেলাম ।

বিয়ে বাড়ি খুব হৈচৈ শোনা যাচ্ছে , বর আসার সময় হয়েছে বলছে সবাই,
আন্টি আমাকে দেখেই চিনে ফেলল ।

আমি বললাম ”  রাত্রির  সাথে দেখা করা যাবে ?

আন্টি মাথা নেড়ে আমাকে নিয়ে গেল  রাত্রি  কাছে ।

সরাসরি   রাত্রির কাছে গেলাম, ওর প্রিয় ফুল রজনীগন্ধা কটা স্টিক ওর হাতে দিয়ে জানতে চাইলাম”কেমন আছ ?”

রাত্রি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষন,

তারপর অঝোরে কান্না,পাঁচ বছরের কান্না যেন একবারেই ঝরিয়ে দিল,

কাঁদতে কাঁদতে জানতে চাইল ”বউকে আননি সাথে ?”

সেই অভিমানী কন্ঠ আমাকে অস্হির করে তুলল । আমি কি করবো বুঝতে পারছিনা ।
রাত্রি  কে সব খুলে বলবো নাকি চলে যাবো ?

আর কিছুক্ষন পর বিয়ে ।

রাত্রি আর আমার থাকবেনা ? এমনটি হতেই পারেনা ।

আমাকে ছাড়া ও সুখি হতে পারেনা ।
আকাশ ভাবছে কি করবে এখন ?
বর চলে এল সবাই ছোটাছুটি করে চলে গেল ।
আকাশ  রাত্রির  পাশে বসলো , ওর হাত দুটি ধরে বলল
” এই পাঁচ বছরে আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে নিয়ে ভেবেছ তুমি ?

www.brandbazaarbd.com”উওর দাও দয়া করে ?”

”পাঁচ বছরে একটি মুহুর্তের জন্য আমায় ভুলে থাকতে পেরেছো ?” আকাশ জানতে চায়,

কিন্তূ  রাত্রি  নিশ্চুপ……বিরামহীন চোখে জল ঝরছে……  রাত্রির ঝরে যাওয়া প্রতি ফোঁটা জল দুহাতে নিয়ে

আকাশ নিজের চুল ভিজিয়ে ফেলে …

” রাত্রি  তোমার মনে আছে , অকারনে তোমায় কত দিন কাঁদিয়েছি ?
তুমি কাঁদতে
আর আমি মাথাটা নুইয়ে রাখতাম যেন তোমার চোখের এক ফোটা জল মাটিতে পড়তে না পারে ।”
আকাশ  বলেই যাচ্ছে কথা…… রাত্রি  নিরব

এই পাঁচ বছরে অন্য কাউকে যদি তোমার মনে স্হান দিয়ে থাক তাহলে তুমি এ বিয়ে মেনে নাও,

এই পাঁচটি বছরে যদি আমি ছাড়া অন্য কাউকে ভালবেসে থাক তবে আজ বধুর সাঁজে অন্যের ঘরনি হয়ে যাও…..আমি বাঁধা দিব না ।
আকাশ  জানতে চায়….তুমি কি এ বিয়তে রাজি আছ ?”

নিরব নিস্তব্দ রাত্রির  বাঁধ ভাঙা কান্না বেড়েই যাচ্ছে কিছুতেই থামেনা….

আকাশ  রাত্রির  চোখের জল মুছিয়ে দিয়ে ,

পরম যত্নে মুখাখানি দুহাতে নিয়ে স্বর্ণের টিপ ওর কপোলে পড়িয়ে দিয়ে বলল ,

”আমাদের ভালোবাসার স্মৃতি এই টিপ , কি করে এটাকে ফেরত পাঠালে বলতো ?”

এবার গায়ের সব শক্তি দিয়ে  রাত্রিকে  প্রচন্ড একটা ঝাকুনি দিয়ে বলল ” বল আমাকে ছাড়া আর কাউকে তুমি

ভালোবাসতে পারবে , অন্য কাউকে নিয়ে সুখি হতে পারবে , বল ….বল…বল..?”

রাত্রি চিৎকার দিয়ে বলল ” না পারবোনা , আমি শুধুই তোমাকেই ভালোবাসি ।”

আকাশ সস্তির নিঃশ্বাস নিল…..

রাত্রির  সামনে দুহাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল ” তাহলে নিঃচিন্তে আমার হাত ধরতে পারো ,

আমি যেখানে নিয়ে যাবো যেতে পারো …………

তুমি কি যাবে বল ?”

…. রাত্রি  কাঁদছে …আকাশ  দু’হাতে সব জল ধরে রাখছে আর

রাত্রির  উওরের  অপেক্ষায় অপলক চেয়ে আছে

প্রিয় মানুষটির মুখোপানে……..

রাফেজা ইমরোজ……



Related posts

মন্তব্য করুন